প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালের স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র নিজেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে; ধ্বসে পরার আশংকা

বরিশাল প্রতিনিধি: বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্মভূমি জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নবাসীর চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল আগরপুর স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রটি নিজেই চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রায় প্রতিদিন এ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তরা খসে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কেন্দ্রের কর্মরত চিকিৎসকেরা। যেকোন সময় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূলভবন ধ্বসে পরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। দারিদ্র পিরিত জাহাঙ্গীরনগর ও সরিকল ইউনিয়নের একাংশের প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দাদের সবধরনের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এ কেন্দ্রটি। মূলভবনের পাশাপাশি আবাসিক ভবনসহ এখানে চিকিৎসক ও আসবাবপত্র সংকট এবং চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ না করায় দারিদ্র রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকিৎসা কেন্দ্রের ভবনটির করুন দশা। ছাদের প্লাস্টার খসে পরার পাশাপাশি দেয়ালগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবন ধ্বসের আশংকায় পুরো ভবনটি জিআই তারের মাধ্যমে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ১৯৫০ সালে ৮০ শতক জমির ওপর বাউন্ডারী দেয়াল নির্মানের মাধ্যমে আগরপুর স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের উদ্বোধণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে টিন সেডের ভবনের মধ্যে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হতো। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে টিন পরিবর্তন করে ইটের দেয়ালের ওপর ছাদ দেয়া হয়। ২০১০ সালে জোড়াতালির মাধ্যমে ভবনের সংস্কার করা হয়।

ওই কেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. নূরুল আলম জানান, অতিসম্প্রতি চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর মাথায় ছাদের প্লাস্টার খসে পরে গুরুতর আহত হয়। এভাবে প্রায়দিনই প্লাস্টার খসে পরে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা লেগেই রয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা গ্রামের দরিদ্র রোগীরা ভয়ে কেন্দ্রের ভবনের মধ্যে ঢুকতে চাচ্ছেন না। যেকারণে অনেক সময় হাসপাতালের বাহিরে বসে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা না থাকায় কর্মচারীদের দূর-দুরান্ত থেকে যাতায়ত করে ঝুঁকিপূর্ন অফিসের মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে।

অপরদিকে আগরপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বিগত ১৮ বছর পূর্বে একজন এমবিবিএস ডাক্তার যোগদান করলেও অদ্যবধি কোন এমবিবিএস ডাক্তার আসেনি কেন্দ্রটিতে। ফলে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বীরশ্রেষ্টর জন্মভূমির বাসিন্দারা। ওই কেন্দ্রের পদকপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সফিউল আলম জানান, আগরপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। এছাড়াও এখানে অভিজ্ঞ নার্সরা প্রতিমাসে চার থেকে পাঁচজন প্রসূতি মায়েদের ডেলিভারি করিয়ে থাকেন।

২০১৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ কেন্দ্র থেকে তিন হাজার ৭৩২জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়’শ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, সেক্ষেত্রে রোগীদের চাহিদার তুলনায় ওষুধ সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া এ কেন্দ্রটির আসবাবপত্র সংকট থাকায় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে ব্যাপক বেগ পেতে হয় কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় সমাজসেবক আলীম হোসেন জানান, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নবাসীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির অবস্থায় বেহাল থাকায় জাহাঙ্গীরনগর ও সরিকল ইউনিয়নের একাংশের প্রায় দেড় লাখ জনগনকে দুইটি নদী পার হয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা অথবা ২০ কিলোমিটার দুরের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। অনেক সময় ওই দুটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিতে যাবার পথে অনেক রোগীর প্রাণহানীর মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, ওই কেন্দ্র দুটি সংস্কারসহ বীরশ্রেষ্ঠর জন্মভূমিতে একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের দরিদ্ররোগীরা সহজেই চিকিৎসা সেবা পাবেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, চিকিৎসক সংকটসহ অন্যান্য সমস্যার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত