প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধুলায় অতিষ্ট নগর জীবন

শাকিল আহমেদ: শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা মহানগরীতে ধুলাবালু দূষণের প্রকোপ অত্যন্ত বেড়ে গেছে। দূষণের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর। দূষণের কারণে স্বাস্থ্যগত ও আর্থিক সমস্যাসহ নানা দূর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। সকাল-বিকাল প্রধান সড়কগুলোতে দুইবেলা পানি ছিটিয়েও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পাড়ছে না সিটি কর্পোরেশন।

শুষ্ক মৌসুমেই হাজার হাজার ইটভাটায় ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো হয়। পাশাপাশি মহানগরীতে অপরিকল্পিতভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ এবং রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রমও বেড়ে যায়। রাজধানীতে চলছে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প। এরমধ্যে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ অন্যান্য মেগাপ্রকল্পের জন্য রাস্তা ও আশেপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি চলছে। এছাড়া এই মৌসুমে গ্যাস-পানি ও বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুড়ি, ভবন নির্মাণের সময় মাটি, ইট,বালুসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী রাস্তা-ফুটপাতে ফেলে কাজ করছে সরকারি-বেসরকারি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানগুলো। নির্মাণসামগ্রীগুলো ঢাকনাবীহিন ট্রাকে করে শহরে পরিবহন করছে তারা।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়াসার ড্রেন পরিস্কার করে ময়লার স্তুপ রাস্তার পাশে রাখা হচ্ছে। দোকান পাট ও গৃহস্থালীর আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা, মেরামতহীন ভাংগাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল, পুরাতন ভবন ভাঙ্গা, মেশিনে ইট ভাঙ্গা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ধোঁয়া, ইত্যাদি ধুলা দূষণের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন পরিবেশবাদিরা।

এসব উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ধুলা বাতাসে মিশে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে পরিবেশবাদী সংগঠন গুলো বলছে, খোঁড়াখুঁড়ির মাটি ও অন্যান্য আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য পৃথক খাতে খরচ হয়। কিন্তু বিধি মোতাবেক কাজটি হয় না। এছাড়াও ড্রেনের ময়লা আবর্জনা রাস্তার দুপাশে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলা-বালি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে শীতে ধুলা দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ধুলা দূষণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, এলার্জি, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধুলা দূষণে জনদূর্ভোগের পাশাপাশি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা হচ্ছে তেমনি আর্থিক ও পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় অবিলম্বে ধুলা দূষণ বন্ধে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ এবং দায়ীদের শাস্তি চাই।

উল্লেখ্য: ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ২৮ জানুয়ারি দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। যাদের কারণে বায়ুদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুইবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পরিবেশ মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে, এবং যেসব এলাকা ধুলাবালি প্রবণ, সেসব এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিনে দুইবার পানি ছিটাতে দুই সিটির মেয়র ও নির্বাহীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবিষয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ি ডিএনসিসি এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে সকাল-বিকাল দুবেলা পানি ছেটানো হচ্ছে। তবে এবিষয় কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সচেতন ও সহযোগি হতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিবহনের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্শেদ বলেন, ডিএসসিসির ভিআইপি ও প্রধান সড়কগুলোকে আমরা প্রতিদিন দুইবার পানি ছিটানো হচ্ছে তবে আমাদের পরিবহন সংকট রয়েছে। বর্তমানে ডিএসসিসিতে ৯টি গাড়ি আছে যার প্রতিটিতে ৭ হাজার লিটার পানি ধরে কিন্তু এটি আমাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়, ধুলা নিয়ন্ত্রণে আরো কিছু গাড়ী দরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত