প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম…’!

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

আহসান হাবীব, মহেশ্বতা দেবী, সৈয়দ শামসুল হক, ফিরোজা বেগম, শহীদ কাদরী, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, রফিকুল ইসলাম, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, রফিক আজাদ, সিকদার আমিনুল হক, সাযযাদ কাদির, নজরুল ইসলাম বাবু, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, তিতাশ চৌধুরী, সমুদ্র গুপ্ত, ত্রিদিব দস্তিদার, মীজান রহমান, আবু শাহরিয়ার, কাজী আরিফ, আয়শা ফয়েজ, বেবী মওদুদ, মাহবুবুল হক শাকিল, শওকত আলী এবং নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীকে নিয়ে স্মৃতিগদ্য। প্রকাশক: চৈতন্য! প্রচ্ছদ: রাজীব দত্ত!

ক. আমরা এমন একটি অসাধারণ সময় পার করেছি, তা শুধু আমরা শাহ্ আব্দুল করিম ভাষায় বলা যায়- ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম…’! আগে আমরা লেখকরা অনাত্মীয় সত্ত্বেও সবাই এক অদৃশ্য একান্নভুক্ত পরিবারের বৃত্তে বসবাস করতাম। যা এখন আর সেই পরিবেশ নেই। বদলে গেছে দিন, পাল্টে গেছে সময়! সেই অম্লমধুর স্মৃতিগুলো ধারণ করে লেখা এই গ্রন্থ। ইতোপূর্বে আমার আরেকটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘কাছের মানুষ দূরের মানুষ’ বের হয়েছে বাংলাপ্রকাশ থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় রচিত এবারের গ্রন্থটিও। কিন্তু নামটা উল্টিয়ে দিয়েছি- ‘দূরের মানুষ কাছের মানুষ’।

খ. অনেক চড়বো : মৃত্যুর পর, আবার কেউ কেউ মৃত্যুর আগেই চৎড়ঢ়যবঃ পরিণত হয়। অর্থাৎ কবি একপর্যায়ে নবীতে উত্তীর্ণ হয়ে পবিত্র হয়ে উঠেন। আমি তা বিশ্বাস করি না। কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরা সমাজের আদর্শ মানুষ। সাধারণ মানুষ শুধু তাদের সৃজনশীল কর্মই নয়, তাদের জীবনযাপনও অনুসরণ করে। সেজন্য তাদের প্রকৃত চিত্র, চিন্তা, চেহারা তুলে ধরা অনিবার্য বলে আমার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস থেকে কাছ থেকে দেখা মুখোশ মানুষদের অজানা দিকগুলোও কিছুটা উপস্থাপন করি। যাতে আগামী প্রজন্মরা প্রকৃত সত্যটা জানতে পারে। এজন্য আমাকে অনেক খেসারত দিয়ে হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু আমি আমার বিশ্বাস এবং যৎসামান্য সামাজিক দায়িত্ব থেকে অনঢ়। ফলে এ গ্রন্থে অনেক অপ্রিয় সত্য কথা স্থান পেয়েছে! যেমন:

দুই ভাষা সৈনিক একপর্যায়ে এক হয়ে যায়। তথাকথিত এক ভাষা  সৈনিক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার মামলায় আরেক ভাষা সৈনিক মুহম্মদ হাবিবুর রহমান অনুমোদন দেন। ১৯৯৪ সালের ২২ জুন দেয়া ৫৪ পৃষ্ঠার রায়ে অধ্যাপক গোলাম আযম সম্পর্কে ১৯৭১ সালের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বিচারপতিদের করা মন্তব্য ছিলো এ রকম: ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যেসব বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে, তা সংঘটনের সাথে অধ্যাপক গোলাম আযম কোনোভাবে সরাসরি জড়িত ছিলেন, এমন কোনো কিছু আমরা পাইনি।’ রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘পাকিস্তানি আর্মি ও তাদের সহযোগী বাহিনী রাজাকার, আলবদর কিংবা আলশামসের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে যেসব বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে, তার একটির সাথেও অধ্যাপক গোলাম আযমের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।’

খ্যাতিমান মুহম্মদ হাবিবুর রহমান এবং আরো তিন বিচারপতির কাছে দেশ ও জাতীর চেয়ে স্বাধীনতা বিরোধীই প্রধান্য পেয়েছিলো। তাদের জন্য পাকিস্তানি গোলাম আযম বাংলাদেশের নাগরিক হয়েছে। যার খেসারত জাতিকে দিতে হচ্ছে। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান রেখে গেছেন সেই ইতিহাসের কলংকের তিলক।

অথচ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায়ের সময় বিচারপতিরা ‘বিব্রতবোধ’ করতে পারেন আর হাবিবুর রহমানরা গোলাম আযমের নাগরিকত্বের মামলায় ‘বিব্রতবোধ’ করতে পারেননি! এ রকম অনেক অপ্রিয় সত্য কথা বর্ণিত এবং বিশ্লেষণ আছে এ গ্রন্থে।

গ. ‘দূরের মানুষ কাছের মানুষ’ বইটির সর্বশেষ লেখাটি ব্যতিক্রম। যাকে নিয়ে লেখা, তিনি বাংলা সাহিত্যের ছাত্র হলেও কোনো শিল্পী-সাহিত্যিক ছিলেন না। কিন্তু তার জীবনের আদর্শ থেকে অনেক কিছু শিক্ষা আমরা অর্জন করতে পারি। সেই বিবেচনায় একটি ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর মৃত্যুকে সার্বজনীন করার চেষ্টা করেছি। আর বইটির উৎসর্গেও রয়েছে একটি ব্যতিক্রম ব্যাপার। যাদের নিয়ে লেখা, তাদেরই উৎসর্গ করছি।

‘দূরের মানুষ কাছের মানুষ’ গতবার বইমেলায় প্রকাশ হবার কথা ছিলো। কিন্তু মেলায় শেষ সময়ে এসে তা আর হয়ে উঠেনি। ফলে এক বছর অপেক্ষা করতে হলো। ধন্যবাদ দেবো, স্নেহভাজন প্রকাশক রাজীব চৌধুরীকে। তিনি হাল ছাড়েননি। বইটির জন্য লেগেছিলেন এক বছর। ফেসবুক থেকে

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত