প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমারের উদ্বাস্তু নিতে জাতিসংঘের উচিত অন্যদেশকে সীমান্ত খুলে দিতে বলা

তরিকুল ইসলাম : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের মিয়ানমার ফেরত পাঠাতে উভয় দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্নর বহু সময় পরেও এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা ফেরত নেয়নি দেশটি। চলতি বছরের শুরুতে রাখাইনে আবারও সংকট তৈরি হলে নতুন করে বৌদ্ধ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও আসতে শুরু করে।

এমন পরিস্থিতির পর সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, মিয়ানমার দেশটির নাগরিক রোহিঙ্গাদের পর এবার সাধারণ বৌদ্ধ ও উপজাতিদের তাড়িয়ে দিচ্ছে । ইতোমধ্যে এদের অল্পসংখ্যক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আমরা বর্ডার অনেক খুলে রেখেছি। এবার মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা (বাংলাদেশ) বর্ডার সিল করে দিয়েছি। এখন আর কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর মিয়ানমার থেকে যেসব রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশ আসতে চায় তাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা বলছে, সহিংসতার কারণে দেশটিতে যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার জন্য তারা উদ্বিগ্ন। এমন বিপর্যয় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ।

মিয়ানমার নাগরিকদের প্রবেশ অনুমতি’র অনুরোধে কি ভাবছে বাংলাদেশ এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলছেন, দুনিয়াতে ১৯৩টি দেশ রয়েছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাও এর মধ্যে কম নয়। আপনি ওদেরকে প্রশ্নটা করে দেখুন ওরা শুনে কিনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন মনে করেন, রোহিঙ্গাদের থেকে দৃষ্টি ফেরাতে মিয়ানমার নতুন সংকট তৈরির মাধ্যমে এবার বৌদ্ধদের বিতাড়িত করছে। তারা যেন বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নীতিগত অবস্থান থেকেই কথাটা বলেছেন। মূলত তিনি একটা বার্তা দিতে চাইছেন। তিনি পলিসি লেভেল থেকে কথাটা বললেও ফিল্ডের বিষয়টা ভিন্ন। মিয়ানমারের সাথে জল-স্থল পথের বর্ডার। পুরোটাতো সর্বোক্ষণিক নজরদারি রাখা সম্ভব না। দেশটির নাগরিকরা সুযোগ বুঝেই বিভিন্ন ভাবে প্রবেশ করছে। ইউএনএইচসিআর বর্ডার খুলতে বলে তারা তাদের পলিসি স্ট্যান্ড নিয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

যদিও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও কে জরুরি তলব করা হয় এবং ঢাকার পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ চেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়, গত দেড় বছরে বাংলাদেশের শত চেষ্টা স্বত্বেও একজন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। এ অবস্থায় নতুন করে পরিকল্পিতভাবে রাখাইন অস্থিতিশীল করে দলে দলে বুদ্ধিস্ট এবং উপজাতিদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনু বিভাগের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহবান মিয়ানমারকে পূরণ করতে হবে, অন্যথায় যেকোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য মিয়ানমারকেই দায় নিতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত