প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আকাশের আত্মহননে মিতুর দায় পরীক্ষা করুক আদালত ’ ৪৯ বিশিষ্ট জনের বিবৃতি

জিয়ারুল হক : চট্টগ্রামে ডা. আকাশের আত্মহননের ঘটনায় ৪৯ বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘মিডিয়া ট্রায়াল নয়, আকাশের আত্মহননে মিতুর দায় পরীক্ষা করুক আদালত ’। ডিবিসি নিউজ

এক লিখিত বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘গভীর উদ্বেগের সাঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, চট্টগ্রামে সংগঠিত হওয়া চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচÐ বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রকাশিত হচ্ছে। যার নির্মম শিকার হচ্ছেন আকাশের স্ত্রী চিকিৎসক তানজিলা হক চৌধুরী মিতু এবং তার পরিবার। এই ঘটনাটিকে ‘মিডিয়া-ট্রায়াল’-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি যে, আকাশের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে প‚র্বানুমানের ভিত্তিতে সমাজের গৎবাঁধা দৃষ্টিভঙ্গি আরোপ করে মিতুকে অভিযোগ করার ঘটনা ব্যাপক হারে ঘটছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও সেই একই প্রবণতা দ্বারা পরিচালিত হয়ে মামলা হওয়ার আগেই আইন বহির্ভ‚তভাবে মিতুকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে রিমান্ডে নিয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

তারা বলেন, ‘সা¤প্রতিককালে বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করছে, যা কোনভাবেই আমরা সমর্থন করতে পারি না। আমরা সমাজের এই বাস্তবতা দেখছি যে, একটি মানসিক পরিস্থিতিতে কেউ আত্মহত্যা করেন আবার বেশীরভাগ মানুষ সেই একই পরিস্থিতিতে বা তারচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েও আত্মহত্যা করে না। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন মানবিক এবং সামাজিক সম্পর্কের নতুন ধারা এবং মাত্রা আমাদের সমাজে প্রবেশ করেছে। সারা বিশ্বেই মানুষ এখন অপর মানুষের সাথে সম্পর্কের মাত্রা নিজে নির্ধারণ করাকে অধিকার ভাবছে। এটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়। এজন্য আত্মহত্যার দায় অন্যকে দেয়া এবং প্ররোচনার জন্য অভিযুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত সচেতনভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন, যেনো আত্মহত্যা করা ইতিবাচক হিসাবে প্রতিফলিত না হয়’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়-কে, কোন পরিস্থিতিতে চরম হতাশ হয়ে জীবনকে অর্থহীন মনে করবে তা বলা মুশকিল। তবে যাদের এই ধরণের প্রবণতা থাকে পরিবারের সদস্যরাই সর্বাগ্রে তা বুঝতে পারে। তাই তাদের মানসিক শক্তি যোগানো, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা পরিবারের সদস্যদের কাজ৷ বিষয়টির সার্বিক সমাধানে সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তনও জরুরি।

ভবিষ্যতে আর কেউই যেন কোন পরিস্থিতিতেই আত্মহননের পথ বেছে না নেয়- সেই লক্ষ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের তরফে সামাজিক সচেতনতাম‚লক কার্যক্রম হাতে নেয়া দরকার বলেও বিবৃতিতে জানান বিশিষ্টজনেরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, শাহদীন মালিক, খুশী কবির, সারা হোসেন, রেহনুমা আহমেদ, আনু মুহাম্মদ, গীতি আরা নাসরীন, স্বাধীন সেন, মির্জা তাসলিমা সুলতানা,সাঈদ ফেরদৌস, আইনুন নাহার, ফাহমিদুল হক, জোতির্ময় বড়ুয়া, হাসনাত কাইয়ুম, সৌভিক রেজা, ফেরদৌস আর রুমীসহ দেশের ৪৯ শিক্ষক, আইনজীবী, কলামিস্ট, অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত