প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির বড় একটি অংশ চায় না জামায়াত জোটে থাক

শাহানুজ্জামান টিটু : ২০ দলীয় জোটে জামায়াত। এ নিয়ে তর্ক-বির্তকে শেষ নেই। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সখ্যতা আজকের নয়। দীর্ঘ পথচলায় নানা সমস্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও জামায়াত বিএনপির সঙ্গ যেমন ছাড়েনি একইভাবে বিএনপিও জামায়াতের ভোট ব্যাংকের কথা চিন্তা করে দেশি-বিদেশি চাপ উপেক্ষা করেও জামায়াতকে ছাড়েনি। প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে জামায়াতকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি যে ভাবনা থেকে জামায়াতকে এতোদিন গুরুত্ব দিয়ে এসেছে নির্বাচনে দেখা গেছে তাদের ভাবনার সঙ্গে ব্যাপক গড়মিল। নির্বাচনের দিনই বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আগেই নির্বাচন বর্জন করে বসে জামায়াত। এছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির উপর নানাভাবে চাপ দিয়ে প্রার্থিতা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে। সিলেটে ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা মেয়র প্রার্থী দিয়েছে। সেখানে তাদের হিসেবের ভোটও তারা পায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ অনেকেই বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের থাকার সমালোচনা করে আসছেন। তাদের বক্তব্য, বিএনপিরও উচিত হবে না আর জামায়াতকে জোটে রাখা বা তাদেরকে সঙ্গে রাখা। তারা বিএনপির সঙ্গে থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। সরকারের অংশীদার হয়েছে। বিএনপিকে দেশে ও আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে। যদি জামায়াত নিজে থেকে চলে যায়, তাহলে বিএনপির উচিত হবে না তাদের ফিরিয়ে আনা। এই মুহূর্তে জামায়াতকে সঙ্গে রাখা লাভজনক ব্যাপার নয়, বরং দায় হয়ে গেছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের সাফ জবাব, জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী দল। তাদের জোটে রাখাটা আমি কখনো পছন্দ করিনি। তারা যদি বেরিয়ে যায়, সেটা তাদের ইচ্ছা। আমি মনে করি অনেক আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিলো।

বিএনপির নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতকে নিয়েই দলের মধ্যে দুটি ধারা রয়েছে। দলের বড় একটি অংশ মনে করে বিএনপি অযথাই জামায়াতকে সঙ্গে রেখে নিজেরদের অর্জনগুলো ছোটো করছে। জামায়াতবিরোধী শক্তিশালী এ অংশের নেতারা মনে করেন, বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বৈঠকেও জামায়াত প্রসঙ্গটি উঠে। তাতে করে এসব নেতৃবৃন্দকে বিব্রত পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয়। এবার নির্বাচনে যদি জামায়াতকে ধানের শীষে ভোট করতে না দেয়া হতো তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। এমন করুণ পরিণতিতে পড়তে হতো না।

দলের অপর একটি অংশ মনে করে, জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা বিএনপিকে ছেড়ে যায়নি। তাদের একটা ভোট ব্যাংক রয়েছে। এ অংশের নেতারা মনে করেন, বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারলেই আওয়ামী লীগের লাভ বেশি। কারণ তারা জামায়াতকে তাদের সঙ্গে নিয়ে নেবে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 

সর্বাধিক পঠিত