প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাকুরিরত অবস্থায় গর্ভবর্তী হলে হেনস্তার শিকার হতে হয় নারীদের

সাজিয়া আক্তার : বাংলাদেশের একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গর্ভবতী হওয়ার কারণে ওএসডি করা হয়েছে।এই কর্মকর্তা সে অভিযোগ সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। সংসদে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দুজন এমপি। চাকুরিরত অবস্থায় গর্ভবতী হওয়ায় হেনস্তার অভিযোগ নতুন কিছু নয় বাংলাদেশে। নারী ঐ ইউনেয় যে অভিযোগ করেছেন বেসরকারি খাতে সে সমস্যা আরো বেশি। বিবিসি বাংলা

একটি আবেগ ঘন ফেইসবুক স্ট্যাটাস কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে। একজন নারী উপজেলা কর্মকর্তা অভিযোগে জানিয়েছেন সন্তানসম্ভবা হওয়াই কর্মস্থলে তার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা হিসেবে উপস্থাপনা করা হয়েছে এবং তাকে ওএসডি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে বেসরকারি খাতে নারীদের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি প্রায়শই ইতিবাচক ভাবে নেন না চাকুরিদাতারা।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী মুর্শেদা আক্তার বলেন, আমি সহকর্মীদের কাছ থেকে আগে ভালো ব্যবহার পেয়েছি। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার পর আর সেই ব্যবহারটা পাইনি। কাজের জায়গায় আমাকে অন্য একটি ডিপার্টমেন্টে কাজ দেয়া হয়েছিলো। আমার চাকরির ক্ষেত্রেও এক প্রকার সমস্যা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ম্যানেজমেন্টে ডিপার্টমের্ন্ট হয়তো কম্পিউটারের কাজ থাকে কাজেই এটা করা সহজ হয়। কিন্তু অন্য অনেক কাজেই গর্ভবতী অবস্থায় নারীরা করতে পারে না। সেই সময় তাদের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলা। কাজেই গর্ভবতী অবস্থায় কাজে নিতে চায় না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

বাংলাদেশে ২০১১ সালে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা সন্তান সম্ভবা হলে রীতিমত কাজ হারাতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই গর্ভবতী হলে একটা পর্যায় পর্যন্ত অনেকেই তা লুকিয়ে রাখেন। গর্ভবতী নারীকে দিয়ে সব কাজ করানো যাবে কিনা অথবা ঘন ঘন ছুটি দিতে হবে কিনা সেসব নিয়ে কর্মস্থলে প্রশ্ন উঠে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান অজেয় রহিতাশ্য আল কাজী বলছেন, একটি নতুন সন্তানের আগমন কর্মক্ষেত্রে সব সময় সুখের খবর নাও হতে পারে।

তিনি আরো বলেছেন, এখানে নারী কর্মীদের কিছুটা যৌক্তিক সীমাবদ্ধতাও তাকে। কেনো না মাতৃত্বকালীন ছুটির পর একজন মা যখন কর্মস্থলে যোগ দেন করেন তখন তাদের মাথায় শিশুর চিন্তা থাকে, শারীরিকভাবে এতোটা ফিট থাকেন না বলে সংগঠনের যারা কর্তা বা ডিসিশন মেকার তারা মনে করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত