প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবিদ রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা

আমিরুল ইসলাম : বিশ^বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে এমএসএস শেষ পর্বে পড়ার সময় ‘শেষ পর্যন্ত কী হবার আশা পোষণ করেন?’ এই প্রশ্নের জবাবে এক সাংবাদিককে অকপটে বলেছিলেন, ‘সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাহিত্য সমালোচক হতে চাই।’
পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের নাম করা সাংবাদিক হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। এতোক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন সাংবাদিক আবিদ রহমান। গতো ১১ ফেব্রুয়ারি ছিলো তার মৃত্যুদিন। প্রয়াণ দিবসে দৈনিক আমাদের সময় পরিবারের পক্ষ থেকে আবিদ রহমানকে জানাই বিন¤্র শ্রদ্ধা!
আবিদ রহমান সবশেষ দৈনিক আমাদের অর্থনীতি’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞ এই সাংবাদিকের পেশা শুরু সাপ্তাহিক রিপোর্টার ও অধুনালুপ্ত দৈনিক দেশ-এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে। তিনি অধুনালুপ্ত দৈনিক জনপদ, দৈনিক আজাদ ও দৈনিক দেশসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সহ-সম্পাদক, সিনিয়র রিপোর্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে টানা দশ বছর কাজ করেছেন। জনাব আবিদ বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক বিচিন্তা প্রকাশের পরিকল্পনা ও প্রাথমিক প্রকাশনার সঙ্গেও ছিলেন। তিনি ‘রাখাল’ নামের একটি আন্তর্জাল সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন। তিনি ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে প্রবাসী আবিদ রহমান বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখেছেন। আবিদ রহমানের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিনটি: প্রেক্ষাপট’ ৭১ (সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প সংকলন, ১৯৭৯), সৈয়দ ওয়লীউল্লাহর উপন্যাস (গবেষণা গ্রন্থ, ১৯৮২) এবং কুম্ভকর্ণ চারপাশ, ২০১১)। ১৯৮২ সালে জনপদ নাট্যদল আবিদ রহমানের রচনা ও নির্দেশনায় মহিলা সমিতিতে মঞ্চস্থ করে ‘মেট্রোপলিশ’। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আবিদের রূপান্তরিত মঁলিয়ের ‘বউদের পাঠশালা’ দর্শকনন্দিত হয়। জনাব আবিদ রহমান প্রবাস জীবনেও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মেলবোর্ন বাংলা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৭৯ সালে আলোচিত সংগঠন ‘রাখাল’ এর প্রকাশনা ‘স্বরূপ অন্নেষা’য় ‘সাম্প্রদায়িকতা’ বিষয়ক গবেষণাধর্মী লেখার মাধ্যমে আবিদ সাহিত্যে নিজের আগমনী বার্তা দেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আবিদ রহমান চার বছর ব্যাংকিং ও দশ বছর আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি শিপিং ও ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট ব্যবসায় বিশেষজ্ঞ। তিনি হংকং, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেছেন। রাজনৈতিক সচেতন আবিদ রহমান অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতহীন আবিদ রহমান দৈনিক ‘আমাদের সময়ে’র নিয়মিত প্রদায়ক ছিলেন। তিনি বাংলানিউজ ২৪ ডটকমের কন্ট্রিবিউটিং এডিটরও ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও একমাত্র পুত্রসন্তানের জনক ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত