প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুয়ান্তোনামো ও বাগরামের বন্দিদের জীবনে কি ঘটেছে

কায়কোবাদ মিলন : গুয়ান্তেনামো ও বাগরাম বন্দিদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের ক্ষেত্রে প্রবাদে পরিণত হয়েছে। এই বন্দি শিবিরে বন্দিদের সঙ্গে যেভাবে নিষ্ঠুর আচরণ করা হত তা ইতিহাসে বিরল। নিষ্ঠুরতার ক্ষেত্রে দুটি বন্দি শিবিরই সমার্থক হয়ে আছে।

আফগানিস্তানের বৃহদায়তন বিমান ঘাঁটি সন্নিহিত এলাকায় এই নিষ্ঠুর বন্দি শিবিরটি অবস্থিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ওই বন্দি শিবিরের নিয়ন্ত্রণ এক পর্যায়ে আফগানিস্তানের কাছে ছেড়ে দেয়। এখন এর নাম হয়েছে পরওয়ান ডিটেনশন কেন্দ্র। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এই বন্দি শিবিরের নিয়ন্ত্রক। যুক্তরাষ্ট্র এখন গুয়ান্তেনামো বন্দি শিবিরে যেসব অপকর্ম করেছে তার দায়দায়িত্ব নিতে চাইছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়ার পর অবশিষ্ট মুষ্টিমেয় বন্দিরা আফগান সরকারকে বিপাকে ফেলেচে। এ রকম একজন বন্দি হলেন তাজিক নাগরিক সৈয়দ জামালুদ্দিন। তিনি ৪০৫৭ নম্বর বন্দি। তাকে তাজিকিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তিনি মারাত্মক রকমের নির্যাতনের শিকার হন।

জামালুদ্দিনের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন আল্লারড কে লোয়েনস্টেইন। তিনি ইয়েল ল স্কুলের সঙ্গে যুক্ত এবং মানবাধিকার রাইট ক্লিনিকের হয়ে কাজ করেন। জামালুদ্দিনের প্রতি নিষ্ঠুরতার কথা তিনিই ফাঁস করেন। ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত আল্লারড বলেন, জামালুদ্দিনের ভাই ফাত্তাহকেও জোর করে তার দেশে তাজিকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।  নির্যাতন বিরোধী কনভেনশনে আফগানিস্তান স্বাক্ষর করেছে। সেই কনভেনশনের শর্তানুযায়ী কোন ব্যক্তিকে অন্য দেশে হস্তান্তর করা যাবেনা। ইয়েল ক্লিনিক ভয় পাচ্ছে, ৩৮ বছর বয়সি মুসাকে তার দেশ উজবেকিস্তানে পাঠানো হবে। কাবুলের বন্দিশালায় তিনি বহুদিন বন্দি ছিলেন। আরেক বন্দি আবু ইখলাসের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি মিসরীয়। বয়স ৫৫। পেন্টাগনের ভাষ্য, তিনি আল কায়েদার লোক। আফগান তালেবান ও কাশ্মীরের মুজাহিদদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এর সত্যাসত্য যাচাইয়ে কোন প্রমানাদি উপস্থাপন করা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে তার সর্ম্পকে কোন উচ্চবাচ্য করা হচ্ছেনা। সাম্প্রতিককালে তার খোঁজে বেশ কিছু অভিযান পরিচালিত হলেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা।

আফগান প্রেসিডেন্ট এবং তার অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা এমনকি জাতিসংঘের আফগান কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের উল্লেখিত নিখোঁজ ব্যক্তি সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি। বাগরাম বন্দি শিবিরের বন্দিদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে শ্রেনীভূক্ত করা হয়নি। ফলে তারা কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু অধিকার পাওয়ার অধিকারি। মানবাধিকার এক কর্মীর মতে বাগরাম বন্দি শিবির দোষী এবং নির্দোষদের কারাগার।ওই অন্ছরের বহু লোককে সেখানে রাখা হয়েছে। ৯/১১ এর পরে বহু আফগান নাগরিককে ওই জেলে পোড়া হয়েছিল। আহমদ রশীদ নামের এক সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, বারগামের বন্দিদের মধ্যে অধিকাংশই নির্দোষ। বন্দিদের মধ্যে শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবি ও ত্রাণ কর্মীও রয়েছেন। সাংবাদিক রশীদ বলেন , ওই দুই কারাগারে আটককৃতদের রাখার মূলে বড় তালিকা দেখানো এবং তদন্ত কাজে আলস্য। গুয়ান্তেনামা ও বাগরাম বন্দি শিবিরে আটক অনেক বন্দি বিচারের দ্বিতীয় দফায় আদালত থেকে মুক্তি পেলেও তাদের অনেকেই তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। কেননা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে তারা আবার নতুন করে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। বহু বন্দি মার্কিন এবং আফগান রক্ষীদের কাছে নির্যাতিত হয়েছে। আবার ঘুষ না দেয়ার কারণে অনেক বন্দি মুক্তি পেয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে স্বদেশে ফিরে যেতে পারেনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ