প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুধু আর্থিক, শারীরিকভাবেই নয় মানসিকভাবেও সুস্থ থাকতে হবে হজ পালনকারীকে

নিউজ ডেস্ক: আগে ছিল যারা হজ এবং ওমরাহ পালন করতে যাবেন তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল ও শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়ার শর্ত। এবার নতুন করে আরও একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি-২০১৯ এ বলা হয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা ও শারীরিকভাবে সক্ষমতার সঙ্গে মানসিকভাবেও সুস্থ থাকতে হবে। এটি ঠিক করবে মেডিকেল বোর্ড। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় হজ এবং ওমরাহ নীতি-২০১৯ এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইস উল আলম মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। আলোকিত বাংলাদেশ

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, হজ এবং ওমরাহ পালনে ২০১৮ সালে যা ছিল, তার বেশিরভাগ বহাল রেখেই কিছু সংশোধন আনা হয়েছে এ নীতিমালায়। তিনি আরও বলেন, আগে নিয়ম ছিল ৭ রমজানের মধ্যে বাড়িভাড়ার কাজ শেষ করতে হবে। তবে এবারের নীতিমালায় রমজানের আগেই বাড়িভাড়ার কাজ শেষ করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৮ বছর বয়সের নিচে কেউ হজ বা ওমরাহ পালন করতে যেতে চাইলে, তাকে জন্ম সনদপত্র উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া এবার ৪৪ যাত্রীর সঙ্গে একজন করে গাইড থাকবেন। আগে ছিল ৪৫ জনের সঙ্গে একজন গাইড। সৌদি আরবের পরিবহন বাসগুলোয় ৪৫ জনের বেশি জায়গা হয় না বিধায় এবার এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাড়িভাড়াসহ যাবতীয় টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। প্রত্যেক হজযাত্রী এবং ওমরাহ পালনকারী সৌদি আরবের যে বাড়িতে থাকবেন, তার পাসপোর্টের শেষের পাতায় সে বাড়ির ঠিকানাসহ কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া বিমান ভাড়া সরাসরি পে-অর্ডারের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে হজের মতো ওমরাহ পালনেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে।

এবার সরকারি-বেসরকারিভাবে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে যাবেন ১ লাখ ২০ হাজার, বাকি ৭ হাজার ১৯৮ জন যাবেন সরকারিভাবে। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হজ প্যাকেজ ১৪৪০ হিজরি/২০১৯ সাল খসড়ার অনুমোদন হয়েছে। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে হলে প্যাকেজ-১ এর আওতায় লাগবে মোট ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। প্যাকেজ-২ এর আওতায় হজে যেতে চাইলে লাগবে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাবেন, তাদের সর্বনিম্ন ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা দিতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কাবা শরিফ থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে যাদের ভাড়া বাড়িতে রাখা হবে, তারা প্যাকেজ-১ এর আওতায় থাকবেন। বাসা থেকে তারা কাবা শরিফ যাতায়াত করবেন ট্রেনে। প্যাকেজ-২ এর আওতায় যারা থাকবেন, তারা কাবা শরিফ থেকে ২ কিলোমিটার দূরে থাকবেন। তারা যাতায়াত করবেন বাসে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, দুই প্যাকেজেই বিমান ভাড়া ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা গেল বছরের তুলনায় ১০ হাজার ১৯১ টাকা কম। হজে যেতে বিমান ভাড়া কমলেও বেড়েছে প্যাকেজ মূল্য। ট্রেন ও বাড়িভাড়া বাড়ার কারণে প্যাকেজ-১ এ সার্বিক মূল্য বেড়েছে ২০ হাজার ৫৭১ টাকা। আর প্যাকেজ-২ এ বেড়েছে ১২ হাজার ৬৪১ টাকা।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, চাঁদ দেখাসাপেক্ষে ১০ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে। যারা এ বছর হজে যাবেন, তাদের এমআরপির মেয়াদ ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। এবার সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে যাবেন ১ লাখ ২০ হাজার জন। বাকি ৭ হাজার ১৯৮ জন যাবেন সরকারিভাবে। প্রতি হজযাত্রীকে ৬৮ রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ জমা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, এর আগে দুইবার বা তার বেশি যারা হজ পালন করেছেন, তাদের বাড়তি হিসেবে ২ হাজার ১০০ রিয়াল দিতে হবে। একটি এজেন্সি সর্বনিম্ন ১৫০ জন এবং সর্বোচ্চ ৩০০ হজযাত্রী পাঠাতে পারবেন। প্রতি ফ্লাইটে তিনজন মোয়াল্লেম থাকবেন। কোরবানি বাবদ ৫ হাজার ৫২৫ সৌদি রিয়াল ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত