প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবাসন মেলায় কবরের জমি বা প্লট বিক্রি হচ্ছে ‘প্রতি বর্গফুট ১৮৩৭ টাকায়’

মঈন মোশাররফ : জমি বা ফ্ল্যাট নয়। বিক্রি হচ্ছে কবরের জায়গা। তাও আবার আবাসন মেলায়। ক্রেতার সারিও দীর্ঘ। বুকিং দিয়েছেন দুইশর বেশি মানুষ। ঢাকায় যে আবাসন মেলা চলছে, সেখানে এই অভিনব ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। আবাসন মেলায় তাদের স্টলেও ভিড় করছেন অনেকে। এদেরই একজন শফিকুল ইসলাম। এমআইএস হোল্ডিংস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি মেলায় কবরের জন্য প্লটের বুকিং নিচ্ছেন। শফিকুল ইসলাম স্টলের কর্মিদের কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছিলেন প্রয়োজনীয় তথ্য। বিবিসি বাংলা

‘পূর্বাচল রাওজাতুল জান্নাত’ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এমআইএস হোল্ডিংস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, নিজের শেষ ঠিকানার চিন্তা থেকেই আমি এই প্রকল্প হাতে নিয়েছি।

তিনি বলেন, পূর্বাচল রাওজাতুল জান্নাত প্রকল্পের আওতায় বুকিং নেয়া হচ্ছে কবরের জমির। প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর ৮ হাজার কবরের সংকুলান হবে। ইতিমধ্যে দুই হাজার কবরের জমি তৈরি করা হয়েছে। ৭ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩.৫ ফুট প্রস্থের (২৪.৫ বর্গফুট) জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর এককালীন সার্ভিস চার্জ ১৫ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে একটি কবর। অর্থাত প্রতি বর্গফুট কবরের মূল্য ১৮৩৬ টাকা ।

এম আই এস হোল্ডিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বললেন, এই খবরটা জানার পরে অনেকে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বলে কবর নিয়েও ব্যবসা কওে, কিন্তু চিন্তা করলে দেখা যায় যখন বাংলাদেশে মিনারেল ওয়াটার এসেছিলো তখন মানুষ বলতো, পানি আবার কিনে খায় নাকি। এই মুহূর্তে রেডি কবরের প্লট রয়েছে দুই হাজার, তবে মেলায় দুশটির মতো বুকিং পেয়েছেন তারা।

তিনি জানান, আমারা অনেক ভালো রেসপন্স পেয়েছি। সবাই এটাকে ভালো বলছেন। আমাদের ২০০টির মতো বুকিং হয়েছে। আর এটা একদম নতুন। অনেকে জানে না। জানলে আস্তে আস্তে আমরা আরো ভালো রেসপন্স পাবো। ঢাকা শহরের মানুষ যত বাড়ছে, সেইসঙ্গে বাড়ছে কবর দেয়ার জায়গার সংকট। এটাই কঠিন বাস্তবতা। তআপনজনের কবরের উপর অন্য কারো কবর যাতে না হয়, সে জন্য অনেকে উৎসাহ প্রকাশ করেছেন স্থায়ী এই ব্যবস্থায়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত