প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমর্থকদের কলা গাছে ছেয়ে গেছে
চকরিয়া তৃণমূলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে সাঈদী

এম. আমান উল্লাহ, কক্সবাজার: আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চকরিয়া উপজেলায় ফজলুল করিম সাঈদীকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের একাংশের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীসহ তৃণমূলে দেখা দিয়েছে নানা বিভক্তি। এছাড়াও পরো চকরিয়া উপজেলায় সাঈদী সমর্থকদের কলা গাছে চেয়ে গেছে। মনোনয়ন না দেয়ার কারণে প্রতিবাদ স্বরূপ সমর্থকরা কলাগাছ রোপন করে দলের নীতি-নির্ধারকদের জানান দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদীর বর্তমানে ব্যাপক জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে সর্বমহলে। দলীয় নেতাকর্মীসহ তৃণমূলে দীর্ঘদিন ধরে সাঈদীর মনোনয়ন নিয়ে অনেকটা নিশ্চিত ছিল চকরিয়াবাসী। কিন্তু হঠাৎ রবিবার সাঈদীকে মনোনয়ন না দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করে চকরিয়া জুড়ে। এক পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ তৃণমূলের সমর্থকরা প্রতিবাদ স্বরূপ পুরো উপজেলায় কলাগাছ রোপন করে। পাশাপাশি দাবী তুলে দলীয় নীতি-নির্ধারক প্রতি যেন তারা তৃণমূল ও প্রশাসনের জনপ্রিয়তার জরিপ যাচাই-বাছাই করে পূণরায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলা গেইট, থানা রোড, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, চিরিংগা বাজারসহ আরো পার্শ্ববর্তী এলাকায় শত শত কলা গাছ রোপনে নামে হাজারো নেতাকর্মী। পাশাপাশি চকরিয়া পৌরসভার ১, ২, ৩, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জনপদে রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, দোকানের সামনে সারি সারি কলাগাছ রোপন করতে দেখা যায়। অপরদিকে কলাগাছ রোপন করা হয়েছে উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, মালুমঘাট, উত্তর হারবাং, উপক‚লের বদরখালী, বিএমচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পুর্ববড় ভেওলা, সাহারবিল ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অলিগলিতে। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রত্যন্ত জনপদে চষে বেড়িয়েছেন এক ডজন সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা। নির্বাচনে সকলেই আওয়ামীলীগের দলীয় টিকেট পেতে মরিয়া ছিলেন। তবে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চকরিয়া থেকে কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয় ৩ জন প্রার্থীর নাম। তাঁরা হলেন- উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ক্রীড়া সংগঠক আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী। এছাড়াও নৌকা প্রতীক পেতে কেন্দ্রে যোগাযোগসহ নানাভাবে লবিং করছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুর রশিদ দুলাল, আওয়ামী লীগ নেতা নুরে হাবিব তসলিম। সর্বশেষ গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেন। তাতে চকরিয়া উপজেলায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীকে। এই ঘোষণা আসার সাথে সাথেই ফুঁসে ওঠে উপজেলাবাসী। কারণ তাদের অভিযোগ জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই না করেই মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি সিদ্ধান্তের পূর্বে তৃণমূলে জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই করত, তাহলে সাঈদীকে বাদ দেয়ার সুযোগ থাকতনা। এদিকে সাঈদীর নাম দিয়ে নৌকার প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তাকে প্রত্যাখান করে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদীর সমর্থনে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণ এবং সমর্থকরা নিজেদের উদ্যোগে কলাগাছ রোপন করেছে।

আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীদের দাবি, আমরা চেয়েছিলাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড জনপ্রিয়তা যাছাই করে কর্মীবান্ধব নেতা ফজলুল করিম সাঈদীকে দলের মনোনয়ন দেবেন। কিন্তু তা না করে জনবিচ্ছিন্ন নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড অদৃশ্য কারণে চকরিয়া উপজেলায় তৃণমূলের জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতাদেরকে মূল্যায়ন করেনি।

নেতাকর্মীদের দাবি, যেসব ব্যক্তির কারণে দলের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বারবার বিভাজনের কবলে পড়েছে, নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, সেই ধরণের নেতার পক্ষে আমরা নেই। তাই বিকল্প হিসেবে জনগণের কাছে অধিক জনপ্রিয় ও দলের মধ্যে পরীক্ষিত কর্মীবান্ধব নেতা ফজলুল করিম সাঈদীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এরই আলোকে জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতা ফজলুল করিম সাঈদীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে চকরিয়া পৌর শহরের অভিজাত রেস্তোরা রেড চিলিতে তাৎক্ষণিক মতবিনিময় সভা করেছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সভায় বক্তব্য রাখেন- চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, চকরিয়া পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন প্রমুখ। সভায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত