প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের আস্থার জায়গা সঞ্চয়পত্র

রমজান আলী: ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা মিলছে সঞ্চয়পত্রে। একারণেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে। মূলত দু’টি কারণে সবাই সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে। প্রথমত, গ্রাহকদের কাছে অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হয় না। দ্বিতীয়ত, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যেকোনও আমানতের সুদের হারের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে সঞ্চয়পত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ৭৮ হাজার ৭৮৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) মোট বিক্রি হয়েছিল ৭৫ হাজার ১৩৫ কোটি। এর মধ্যে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের জুলাই-ডিসেম্বর এই ছয় মাসে সরকার সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নিয়েছে ২৪ হাজার ৯৯৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নেয় ২৩ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জুলাই- ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে নিয়েছিল ১৩ হাজার ৩০৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। ২০১৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে নিয়েছিল ১৩ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিয়েছিল দুই হাজার ৬৫১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে অর্জিত বিনিয়োগ ছিল ২৫ হাজার ৫৫৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং নীট অর্জিত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে অর্জিত বিনিয়োগ ছিল ১৭ হাজার ২৩২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং নীট অর্জিত হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে অর্জিত বিনিয়োগ ছিল ১৮হাজার ৯৫৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং নীট অর্জিত হয়েছে ৪৭৯ কোটি ২ লাখ টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে অর্জিত বিনিয়োগ ছিল ২৩ হাজার ৩২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং নীট অর্জিত হয়েছে ৭৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়

প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে অর্জিত বিনিয়োগ ছিল ২৪ হাজার ৩০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং নীট অর্জিত হয়েছে ১১ হাজার ৭০৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ২৮ হাজার ৭৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা নীট সঞ্চয় আহরণ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ২৮ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় যার বিপরীতে ৩৩ হাজার ৬৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা অর্জিত হয়েছে।

তথ্যমতে, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে। ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থার উপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে ঘাটতি অর্থায়নের মূল্যস্ফীতি প্রভাবও কম নয়। এছাড়া, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের মাধ্যমে মহিলা ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ করেন।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের চালু করা চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হলো-পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং তিন বছর মেয়াদি ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এগুলোর গড় সুদের হার ১১ শতাংশের বেশি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদ হার কম হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষজন সঞ্চয়পত্রকেই নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে।

এব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক সুদ হার কম হাওয়াতে সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে আগ্রহ বাড়াচ্ছে । তবে এভাবে চলতে থাকলে এক সময় ব্যাংকের আমানতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কারণ ব্যাংক চলে সাধারণ মানুষের অর্থের উপর। তাই আমানত ঘাটতি হলে ব্যাংকগুলো সমস্যা পড়তে। তাই সরকারে উচিত হবে একটি নিদিষ্ট পরিমাণের পরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ করা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত