প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমার প্রতীতি, সংরক্ষিত আসনের চেতনাটা মার খাচ্ছে : রোবায়েত ফেরদৌস

নাঈমা জাবীন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, ‘সংরক্ষিত আসনের’ দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে, যারা রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছে তাদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে এনে তাদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করা। কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০১৮ সালে এসেও আমরা সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা এবং এর মেয়াদ বাড়াতে দেখছি। আশা করা হয়েছিলো সংরক্ষিত আসনে আসা নারীরা একবার-দুবার এভাবে এসে, সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে, পরে সরাসরি নির্বাচনে যাবেন এবং রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা করে নেবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এ কারণে, আমার প্রতীতি, সংরক্ষিত আসনের চেতনাটাই মার খাচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা হলো : সাধারণ আসনের প্রার্থীদের মতো সংরক্ষিত আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নিজেদের কোনো এলাকা থাকে না যার হয়ে তারা প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। ফলে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থীদের মতো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগও থাকে না। জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ না থাকায় সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীরা সাধারণ আসনে নির্বাচন করা প্রার্থীদের মতো নিজেদের জন্য তহবিলও সংগ্রহ করতে পারেন না, যা তাদের অবস্থাকে আরও দুর্বল করাসহ প্রকৃতপক্ষে তাদের ‘দ্বিতীয়-শ্রেণির’ এমপিতে পরিণত করে। সূত্র : বাংলাদেশ
তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত আসনব্যবস্থা এমনভাবে করা হয়েছে যেখানে শুধু আলাদাভাবে নারীদের তালিকা করা হয়, যার ফলে সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি দেখা যায় : প্রতিটি নির্বাচনী জেলায় একই সময়ে সাধারণ (প্রায় অধিকাংশই পুরুষ) প্রতিনিধি ও অতিরিক্ত (নারী) প্রতিনিধি দেখা যায়। সংরক্ষিত আসনের একজন এমপির তার নির্বাচনী এলাকার একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগদানের খবরে তাকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এমপি বিদেশ থেকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে একবার এক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বলা হয়েছিলো, সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত বলে তিনি সরাসরি এমপি নন বিধায় তার নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশের অধিকার নেই। এমনকি ওই এমপির সমর্থকরা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ওই নারী সংসদ সদস্যের ওপর হামলাও করে; ওই ঘটনায় অনেক শিশু আহত হয়। এরপর থেকে অনেক নারী সংসদ সদস্যই নিজ নিজ এলাকার সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এমপির অনুপস্থিতিতে গোপনে তার নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করেন। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা মূলত দলীয় মনোনয়নের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শনে যেতে চান। কিন্তু এতে তাদের সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। ফলে অনেক নারী ওইসব সংসদ সদস্যের এলাকায় না গিয়ে বরং নিজ নিজ এলাকাতেই অবস্থান করতে দেখা যায়। সাধারণত একই নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব যদি একই সঙ্গে একজন এমপি ও সংরক্ষিত নারী এমপির ওপর পড়ে তাহলে সংরক্ষিত আসনের এমপিরা সরাসরি আসনে নির্বাচিত এমপিদের ব্যাপক রোষের শিকার হন। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের তুলনায় একই এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এই এমপিদের বিরোধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত