প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুধ ও দইয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক ও সিসা

সুমন পাইক : গরুরর দুধ, পাস্তুরাইজ প্যাকেট দুধ, দই এবং গো খাদ্যে পাওয়া গেছে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়টিক, কীটনাশক। অস্তিত্ব রয়েছে ক্ষতিকারক অণুজীবের। যা জনস্বাস্থ্যেও জন্য অশনিসংকেত। সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) উদ্দ্যেগে পরিচালিত এক গবেষণা ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা যায়। রোববার রাজধানীর মহাখালীতে প্রতিষ্ঠানটির আইএসও সনদ প্রাপ্তি এবং দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবারের মানসম্পর্কিত গবেষণা কাজের ফলাফল প্রকাশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এনএফএসএল গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুরর দুধের ৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তিন জেলার ছয়টি উপজেলাসহ ১৮টি এলাকা থেকে দুধ, দই ও গোখাদ্য সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডসপ ও আশপাশের উপজেলার দোকান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই সঙ্গে বাজারের সব ধরণের প্যাকেটজাত তরল দুধ, আমদানি করা প্যাকেট দুধের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবটরিতে পরীক্ষা করে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গোখাদ্যের ৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে এর মধ্যে কীটনাশক (২ নমুনায়), ক্রোমিয়াম (১৬টি নমুনায়), টেট্রাসাইক্লিন (২২টি নমুনায়), এনরোফ্লোক্সাসিন (২৬টি নমুনায়), সিপ্রোসিন (৩০টি নমুনায়) এবং আফলাটক্সিন (৪টি নমুনায়) গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রা পাওয়া গেছে। খামারের গরুর দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯ শতাংশ দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কীটনাশক, ১৩ শতাংশে টেট্রাসাইক্লিন, ১৫ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। ৯৬ শতাংশ দুধের নমুনায় রয়েছে বিভিন্ন অণুজীব। প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনায় ৩০ শতাংশে সহনীয় মাত্রার থেকে বেশি হারে টেট্রাসাইক্লিন, একটি নমুনায় সিসা রয়েছে। একই সঙ্গে ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশ দুধের নমুনায় বিভিন্ন অণুজীবের উপস্থিতি রয়েছে। দইয়ের ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে একটিতে সহনীয় মাত্রার থেকে বেশি সিসার অস্তত্বি পাওয়া গেছে। আর ৫১ শতাংশ নমুনায় মিলেছে বিভিন্ন অণুজীব।

বিশেষজ্ঞরা জানায়, টেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লোক্সাসিন, সিপ্রোসিন ও আফলাটক্সিন অ্যান্টিবায়োটিক। এগুলো সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দুধে এবং প্যাকেটজাত দুধে পাওয়া সিসা ও ক্রোমিয়াম মানবশরীরে ক্যানসার সৃষ্টি করে। এ ছাড়া আমাদেও কিডনি এইসব উপাদান ছেকে ফেলতে পারে না যা মানুষের শরীরে জমা হয়। যা মানুষকে তিলে তিলে মৃত্যুও দিকে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাপতি প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক নির্মল সেন প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত