প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভুল ভ্রান্তি শুধরে নিতে সাংবাদিকদের সহায়তা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

তরিকুল সুমন: শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, পরস্পরের দোষারোপের মধ্যে আমরা যেন আটকে না যাই। আমরা যেন আমাদের আসল উদ্দেশ্যটাকে হারিয়ে না ফেলি। আমার মন্ত্রণালয়ের ভুল ভ্রান্তি আমি সাংবাদিককদের কাছে অবশ্যই চাইবো এবং বললে কিন্তু সেটাকে শুধরে নেওয়া সহজ হবে।

রোববার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মিলনায়তনে শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (বিইআরএফ) অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দীপু মনি বলেন, আমরা একজন আরেকজনকে দোষ দিতে পারি। একজন আরেকজনকে সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু পুরো উদ্দেশ্যটা কি? আমাদের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলছেন, বাবা-মারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা রটানো হচ্ছে, চতুর্দিকে এতো কথা। এই সব কথার পেছনে কিংবা সবশেষে আমাদের উদ্দেশ্যটা কি? আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের বাচ্চারা ভালো পড়াশোনা করুক, সেই শিক্ষার মান যেন যথেষ্ট ভালো হয়। আমাদের এই শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিবে, তার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ পাবে। তার যেইটুকু মেধা আছে, যোগ্যতা আছে, যতটুকু প্রস্তুতি আছে, সেই অনুযায়ী ফলাফল করবে। আর সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য যেটি তাহলো, তারা জ্ঞান আহরণ করে একটা ভালো মানুষে পরিণত হবে। উদ্দেশ্য কিন্তু শেষ পর্যন্ত গিয়ে তাই।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি যে আমাদের মধ্যে চেষ্টা সেরকম হওয়া উচিত। ত্রুটি, বিচ্যুতি থাকতেই পারে, যখন এতো বড় একটা ব্যাপার, এতো সংখ্যক পরীক্ষার্থী, এতগুলো প্রতিষ্ঠান, এতো সংখ্যক প্রশ্ন, সেটা আবার নানা রকমের দুষ্টচক্রের সম্পৃক্ততা, এর মধ্যে আবার অনেক টাকার লেনদেন, অনেক কিছু আছে। সেজন্য এর মধ্যে যে গোপনীয়তা রাখতে হয়, সেটা রাখতে গিয়েও এটা অনেক বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে, তারও কিন্তু সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, অনেক সময় আমরা কে কাকে সমালোচনা করে দেখাতে গিয়ে আসল উদ্দেশ্য যেন হারিয়ে না ফেলি। সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে সেটি অনুরোধ করবো, কারণ আপনারা হচ্ছেন সরকার এবং জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। আপনারা তথ্যগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেন, সেই তথ্য হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ। আপনাদের দায়িত্বের মধ্যে নিশ্চয়ই এটাও পরে যে সব তথ্য মানুষের কাছে দেওয়ার জন্য নাও হতে পারে। আপনি তথ্য পেলেন কিন্তু সেই তথ্য যদি ক্ষতিকর, অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং কোন সৎ উদ্দেশ্য সেখানে পূরণ হবে না- আপনি সেখানে সেই তথ্যকে শুধুমাত্র তথ্য হিসেবে দিয়ে দেন লাভের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হতে পারে। প্রকাশনার যেই এথিক্স আছে, এটি তার মধ্যে বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপ মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌদুরী মুঠো ফোনে যুক্ত হয়ে সংগঠনের সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পারিক সহযোগিতা বজায় থাকবে বলেও জানান। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সবার দায়িত্ব আছে। সাংবাদিকের দায়িত্ব আছে সত্য প্রকাশ করা, প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে সেটা যাচাই করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। আমি আশা করি বাংলাদেশ এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। আমরা জানি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ পেছনে চলে গিয়েছিল, আমরা তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। আমরা নিশ্চয়ই আশা করি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। অনুষ্ঠানে শিক্ষা বিষয়ক বিশিষ্ট সাংবাদিকদের সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত