প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা উত্তরের ৪ হাজার ২শ কোটি টাকার ১০ প্রকল্পের ৭টিই চলছে ঢিমেতালে

শাকিল আহমেদ: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) এলাকায় ৪ হাজার ১শ ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ১০টি প্রকল্পের মধ্যে দুটির কাজ শেষের দিকে। আর সাতটি প্রকল্পের কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে, প্রতিটি প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে কমপক্ষে দুই বছর করে। একটি প্রকল্প নতুন অনুমোদন হওয়ায় কাজ শুরুর প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। ডিএনসিসি সূত্র জানায়, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জায়গা সংকট, বাঁধা, ফাইল যাচাই-বাছাইয়ে দেরিসহ নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকটের কারণে এ সব কাজ ঠিক মতো এগোতে পারছেনা। তিনি বলেন, এসব কাজে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক জটিলতা থাকে। যেগুলো নির্বাচিত কোন মেয়র ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। নিবাচিত মেয়র আসলে প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করছি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর এক বছর পার হলেও নতুন কোন প্রকল্প হাতে নেয়নি সংস্থাটি। তবে কিছু প্রকল্পের ফাইল প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। আনিসুল হকের নেয়া ৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২০১৫ সালে জুলাইতে শুরু হওয়া “আরবান রিজিলিয়েন্স প্রজেক্ট” প্রকল্পটির অগ্রগতি হয়েছে ৭১.২৫ শতাংশ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে।

এছাড়া ডিএনসিসির ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ (আইডিআইপি) প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুলাইতে শুরু হয়েছে যা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির এরই মধ্যে ৭৬ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

বাকি ৭টি প্রকল্পের মধ্যে ডিএনসিসির সড়ক উন্নয়নের জন্য এসফল্ট প্ল্যান্ট সংশ্লিষ্ট যান যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং স্থাপন প্রকল্পটি ২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুমোদন হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে দুই বছর পার হলেও প্রকল্পটির অগ্রগতি হয়নি। প্রকল্পটি মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

ঢাকা তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের জুনে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষদিকে হলেও এরই মধ্যে মাত্র দুটি ইউটার্ন নির্মাণ করা হয়েছে।

ডিএনসিসি এলাকা আলোকিত করতে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ডিএনসিসি। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ৪২ হাজার এলইডি বাতি লাগানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ২ হাজার বাতি লাগানো হয়েছে। যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৭ সালের মার্চে ডিএনসিসির উন্মুক্ত স্থানগুলোর আধুনিকায়ন উন্নয়ন ও সবুজায়ন নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ২২টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠের সংস্কার করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ৪ মাস বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত ৩টি মাঠ ও ২টি পার্কের উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ।

গাবতলী সিটি পল্লীতে ৭৮৪ টি ক্লিনার কর্মীর পরিবারকে বাসস্থান শিক্ষার সুযোগ, এবং ক্লিনারদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৭ সালের ফেব্রæয়ারীতে বহুতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় ডিএনসিসি। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

আনিসুল হকের হাতে নেওয়া কারওয়ানবাজার কাঁচাবাজার সরিয়ে মহাখালী, আমিনবাজার ও যাত্রাবাড়ীতে ৩টি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ করে সংস্থাটি। এরই মধ্যে ভবন তিনটি নির্মাণ হলেও আশপাশের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুলাইতে অনুমোদন হয়ে ২০১৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটির অনেকাংশ কাজ শেষ হলেও ব্যবসায়ীদের কিছু দাবি থাকায় এখনো স্থানান্তর হয়নি।

ইসিবি চত্বর হতে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ।

ডিএনসিসি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ যানচলাচল, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকার একটি নতুন আরোও একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। ২০২১ সালের জুন মাসে প্রকল্পটি শেষ হবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমাদের হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কোনোটিতে অর্থ বরাদ্দ, আবার কোনোটির ফাইল যাচাই-বাছাই করতে দেরি হওয়া, কোনোটির জায়গা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে ম‚লত প্রকল্পগুলোর কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

সর্বাধিক পঠিত