প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বপ্নবাজ এফ রোমিও

বিনোদন প্রতিবেদক: অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ের যাওয়ার জন্য মানুষ পাড়ি দেয় দূর্গম পথ। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পৌঁছে যান তার কাঙ্খিত লক্ষে। তেমনি এক স্বপ্নবাজ যুবক আর এফ রোমিও। হাল সময়ের এফডিসি-মিডিয়াপাড়ার আড্ডা মগবাজার মুক্তিযোদ্ধায় এমন অনেকেই আসেন যাদের চোখ আর চাহনী হৃদয়ের অব্যক্ত কথা বোঝায়। এক কথায় অভিনয়। ছোট বা বড় পর্দা বলে কথা নয়, অভিনয়টাই মুখ্য। এদের অনেকেই প্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রীর অনেককিছু রপ্তও করেন। কখনো কখনো খুবই ভালো করেন। তাদেরই একজন আর এফ রোমিও।

অভিনয় করবেন এমন ভাবনা নিয়ে উত্তরাঞ্চল জয়পুরহাট থেকে ঢাকায় এসেছেন। লক্ষ্য একমাত্র অভিনয়। তার আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে জেলা শিল্পকলায় নাচের ওপর ওয়ার্কসপ করেছেন। দারিদ্র্যের সংসারে সেখানে কিছু টাকাও তাকে খরচ করতে হয়েছে। ঢাকায় এসে প্রাথমিক পর্যায় অভিনেতা-নির্মাতাদের আগপিছে থেকে আড্ডার কথাগুলো শোনাটাই নিয়মের পর্যায় দাঁড়িয়ে গেছে। এরইমধ্যে কিছু কাজও জুটেছে। করছেন মন দিয়েই-

রোমিওর ভাষায়, অভিনয়তো বটেই। আমার বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই নাচের প্রতি আলাদা একটা টান ছিলো আমি নাচকে বেশি পছন্দ করি। নাচ ছাড়া কোনভাবেই এ অঙ্গনে টিকে থাকা যাবে না, তাই ওটাকে আলাদা করে প্রাধান্য দেই। সে কারণে মায়ের অনুপ্রেরণায় ক্ল্যাসিক্যাল ডান্সসহ ৬টি ওয়ার্কসপ করেছি। এগুলো করেছি বিটিভির তালিকাভুক্ত নাচের শিক্ষক লিখন, মইনুল এবং সাজু আহমেদ স্যারের কাছ থেকে। এছাড়াও চার বছর ধরে ভারতের বালুরঘাটে ওস্তাদ ইতেজ কাপারুর কাছে মর্ডান ড্যান্স শিখেছি। এখন শান্তিনগর থিয়েটারে যুক্ত হয়েছি অভিনয় শিখতে।

রোমিও এখন কিছুটা আলোকিত। ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পাচ্ছেন। মিউজিক ভিডিওতে পারফর্ম করেছেন। ৩টি সিনেমায় চলছে তার অভিনয়। সঙ্গে রয়েছে একাধিক টেলিফিল্মের কাজ।

তার প্রথম সিনেমা শাহ আলম মন্ডল পরিচালিত ‘ডনগিরি’। ছবিতে কাজের ছেলে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোমিও। রাজু চৌধুরী ‘শুটার’ সিনেমায় বখাটে চরিত্রে অভিনয়, আকাশ আচার্যের ‘মায়াবিনি’ ছবিতে সাইমনের বন্ধুর চরিত্রে, ওয়াকিল আহমেদের ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ ছবিতে বাপ্পীর বন্ধু চরিত্র ছাড়াও ‘আমরাও মানুষ’ সিনেমায় দেখা গেছে স্বপ্নবাজ এই তরুণ অভিনেতাকে। এখন হাতে রয়েছে মিজানুর রহমান মিজানের ‘রাগী’ ও ‘তোলপার’ ছবির কাজ। এছাড়াও সামনেই বদিউল আলম খোকনের ‘মায়ের হাতে বেহেস্ত’ ছবির কাজ শুরু হবে, সেখানেও তিনি অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

কথা কথায় জানালেন, মিডিয়ায় তার কাজের পেছনে চ্যানেল আইয়ের স্থানীয় সাংবাদিক সফিউল বারী রাসেল এবং কমেডি অভিনেতা চিকন আলীর কাছে বিশেষভাবে ঋণী। এছাড়াও বদিউল আলম খোকন, চিত্রনায়ক সনি রহমান ও নির্মাতা মিজানুর রহমান মিজানের নামটিও বেশ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন।

স্বপ্নবাজ এই তরুণ তুর্কীর একটাই প্রত্যাশা ‘অভিনেতা’ হওয়া। তার ভাষায়- একজন অভিনেতাই কমেডিয়ান হতে পার, ডান্সার হতে পারে, গল্পের চরিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এ স্বপ্ন নিয়েই ইটপাথরের এই শহরে মাটি কামড়ে পড়ে আছি।

সর্বাধিক পঠিত