প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কদমতলী এলাকার রাসেল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২

সুজন কৈরী : রাজধানীর কদমতলী এলাকার ক্লু-লেস রাসেল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- প্রধান আসামি সজল ওরফে পিচ্চি সজল (২২) ও মো. হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু (২৫)।

শনিবার শ্যামপুরের হাজীগেট ব্যাংক কলোনী থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ২টি চাকু উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, নিহত রাসেল গ্রামের বাড়ি খুলনার রূপসার শিরগাতিতে কৃষি কাজ করতেন। তার মা রাশিলা বেগমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে চাকরিরর সন্ধানে ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন। এরপর ওই বছরের ১১ অক্টোবর রাতে রাসেলের মা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পান যে, রাসেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে মারা গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই রাসেলের মা ঢামেক হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ডান পাজরে পিঠের দিকে ব্যান্ডেজ অবস্থায় তার ছেলের লাশ সনাক্ত করেন। স্থানীয়ভাবে জানতে পারেন যে, ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর রাতে কদমতলীর বড়ইতলা মোড়ে অজ্ঞাত কয়েকজন ছুরি দিয়ে তার ছেলেকে ডান পাজরে পিঠের দিকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে রাসেল ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। কিন্তু কি কারনে এবং কারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য তিনি পাননি। তবে স্থানীয়ভাবে এলাকায় লোকমুখে প্রচার পেতে থাকে যে, রাসেলকে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।

পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় রাসেলের মা রাশিলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা (নং-১৯) দায়ের করেন। কদমতলী থানা পুলিশ ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে নিহত রাসেলের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হইলেও কে বা কারা ঘটনার সাথে জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি বিধায় মামলায় কদমতলী থানার চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় ওই রিপোর্টের বিরুদ্ধে রাসেলের মা বিজ্ঞ আদালতে না-রাজীর আবেদন করেন। আদালতের আদেশে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) এসআই মো. আল-আমিন শেখ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপর পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনায় ঘটনার রহস্য উন্মোচনে নিয়োজিত গুপ্তচর ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, নিহত রাসেলে বাড়ি খুলনায়। গ্রেফতার সজল রাসেলের একই গ্রামে বিয়ে করে। সেই সুবাদে উভয়ের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সজল রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। কিন্তু বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি হওয়ায় সে তার শ্বশুরবাড়ী এলাকায় থাকতো। ওই সময় রাসেলের সঙ্গে সজলের সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাসেলকে সজল টায়ারের ফ্যাক্টরীতে চাকরী দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। ঢাকায় আসার পর চাকরী না দেওয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে সজল পরিচিত পিংকি ও পারভেজ কদমতলী ও শ্যামপুর থানা এলাকার মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। পিংকি ও পারভেজের মধ্যে এলাকার মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে মাদক সম্রাজ্ঞী পিংকি পারভেজকে খুন করার জন্য বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু ও সজলকে ভাড়া করে। তারা পারভেজকে হত্যার জন্য সু-কৌশলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত ১১টায় ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় সজল কৌশলে রাসেলকেও সেখানে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌছার পর সজল ও বাবু অন্যদের নিয়ে ইয়াবা সেবন শুরু করে। এরপর সজল ও বাবু তাদের কোমড়ে থাকা চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ী পারভেজ ও রাসেলকে স্টেপ করে পালিয়ে যায়। গুরুতর রক্তাক্ত জখম পারভেজ ও রাসেলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ভিকটিম রাসেল মারা যায়।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, হত্যা চেষ্টা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত