প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নায়িকা মানেই ফেসবুকে অশ্লীল ছবি পোস্ট!

মহিব আল হাসান: বর্তমানে নায়িকা মানেই ফেসবুকে অশ্লীল ছবি পোস্ট, দুই একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করা এবং সেই সাথে মহরতেই যেসব ছবি শেষ হয়ে যায় সেসব ছবির নাম দিয়ে নায়িকা বনে যায় অনেকে। ফেসবুকে ট্যাগ লাইনে শো করে অ্যাক্ট্রেস অ্যাট বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বলা হচ্ছে কেবল ফেসবুকেই নায়িকা হিসেবে পরিচিত এমন তরুণীদের কথা।

কিন্তু বাস্তবে নায়িকা ফেসবুকেই দেখা মেলে। নায়িকা হওয়া তো দূরের কথা তাদের কখনও অভিনয়ের আঙ্গিনায় দেখা মেলে না। তবে তাদের ফেসবুক প্রোফাইল দেখলে দেখা যায় তাদের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার। ফেসবুকে এদের ব্যাপক বিচরণ দেখে আজকাল সাধারণ অনেক মানুষই তাদের মনে করেন দেশের চলচ্চিত্র বা টিভি নাটকের ব্যস্ত নায়িকা। সাধারণ মানুষেরা মনে করেন এরাই বাস্তবে ঢাকাই ছবির নায়িকা। যা ভেবে অনেকে এদের ছবি মনে করে হলে আসেন না।

একটু পিছনে ফিরে তাকালে বোঝা যায় যে ঢাকাই ছবির যারা নায়িকা কবরী, ববিতা, মৌসুমি, পূর্ণিমা, পপি, শাবণূর, ছিলেন তারা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। পপি, অপি করিম, দীপা খন্দকার, নাদিয়া আহমেদ, সুমাইয়া শিমু ও নুসরাত ইমরোজ তিশাদের মতো নায়িকাদের অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই হাইব্রিড নায়িকাদের কারণে।

সিনেমা বোদ্ধারা বলছেন, ‘ঢাকাই সিনেমার নায়িকা শব্দটি নিজের নামের সাথে ট্যাগ লাইন করে ব্যাক্তিগত সার্থ উদ্ধার করছে। অভিনয় না করেও ফেসবুকে তারা নায়িকা হয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রভাবটা পড়ছে চলচ্চিত্রের বাকি নায়িকাদেরসহ পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির।
অনেকে মনে করছেন, শোবিজ মানেই তাদের কাছে রাতারাতি বাড়ি-গাড়ির মালিক হওয়া। অনেকে সফলও হচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, তাদের এই বেহায়াপনা ও অসভ্যতার কারণে আমাদের মিডিয়াতে কি আগামীতে ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? না কি একটি স্বাধীন দেশের সংস্কৃতির অধঃপতন ঘটছে? প্রায় দেখা যায়, ফেসবুকে স্বঘোষিত অনেক নায়িকা নগ্ন ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন-নগ্নতাই অশ্লীলতা নয়।

তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিনেত্রী বলেন,‘ফেসবুকে অশ্লীল ছবি পোস্ট করে কী নায়িকা হওয়া যায়, এসব প্রতিকারে কি আমাদের দেশে কোনো ব্যবস্থা নেই? যারা এসব ছবি পোস্ট করে নায়িকা বনে যাচ্ছে তারা কী অভিনয় শিল্পী হতে পারবে? আমি এককথায় বলবো তারা অভিনয় করতে আসেনি তারা এই শিল্পী সত্তাকে নিমর্জিত করতে এসেছে।

নাট্যকার ও নিদের্শক জিনাত হাকিম বলেন, সম্প্রতি দেখা কিছু বিষয়ে নিজেকেই লজ্জায় মুখ ঢাকতে হয়। সানাই, রেশমী বা নায়লাসহ আরো কিছু অসুস্থ মানসিকতার মেয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সমাজকে কলুষিত করার স্পর্ধা দেখিয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মীর লেবাসের আড়ালে অনৈতিক কাজের সুবিধা নিতে নিজের বাজার তৈরি করার চতুরতায় সেলিব্রেটি ভাব ধরে মিডিয়ার সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়েদের বিব্রত করছে। এসব শিল্পীদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

শোবিজ বোদ্ধাদের মতে, ফেসবুকে নায়িকার ছড়াছড়ি। প্রতিদিনই নায়িকা সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যারা সত্যিকার অর্থে নায়িতকা হতে আসেন তারা কখনও এমন আচরণ করতে পারেন না। সত্যিকার অর্থে তাদের কারণে প্রকৃত শিল্পীদের সম্মান-মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত