প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুশাসন অনুপস্থিত, বললেন সুলতানা কামাল

জিয়ারুল হক : রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে পারস্পারিক আস্থার জায়গা তৈরি না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সুশাসন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিূুরক। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুশাসন অনুপস্থিত। বলছিলেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। নিউজ ২৪

তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের যে অঙ্গীকার বা চেষ্টা, যেটি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নিরাপত্তা, স্বস্তি, এবং ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোন জায়গায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি যেখান থেকে বলতে পারি যে না, আমি যে অবস্থায়ই থাকি না কেন, আমি একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই নিশ্চয়তা মিলছে না। তিনি বলেন, আমরা যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করি, আমাদের ধারণা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুশাসন অনুপস্থিত।

এখন সমাজে যেরকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আমরা যে জায়গায় বাস করছি সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, প্রতিটা মানুষের মনের মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা কাজ করছে আমার জীবন আমি স্বাধীনভাবে যাপন করতে পারছি কি না। আমি যা বলতে চাই সেটা বলতে পারি কি না, যেভাবে চলতে চাই সেভাবে চলতে পারি কি না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রশ্নের উদ্রেক করে। বিশেষ করে আমি এমন একটি বোধ পাই কিনা, সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত আমার কর্মক্ষেত্রে, আমার বাড়িতে, আমার বাচ্চার স্কুলে যাওয়া আসা, এবং আমার পরিবারের সদস্যরা বাইরে গিয়ে সেখান থেকে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে কি না। সারাক্ষণই উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়।

সকালবেলা রাস্তায় বের হলে দেখা যায় মায়েরা সারি ধরে বসে আছেন, কেন? অবশ্যই তাদের মধ্যে উদ্বেক উৎকণ্ঠা আছে যে আমার বাচ্চা স্কুল শেষে বাইরে বের হলে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারবে কি না। অথচ তারা বাচ্চাকে স্কুলে পাঠিয়েও কিন্তু বাড়ি চলে আসতে পারতেন।

তার মতে, সুশাসনের শতাংশ হিসাব করলে ৭০-৮০ শতাংশেও নেই আমরা। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকছেন তারা যখন বিরোধী দলে থাকে তখন তাও জনগণের কথা বলে, জনগণকে সংগে নিয়ে চলতে চায়, সব বিরোধীদলের কথা বলবো না, আওয়ামী লীগের কথা বলবো যে, তারা যখন বিরোধীদলে থাকে তারা জনগণের কথা বলে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলেছে এবং শক্ত একটা ভ‚মিকা পালন করতে পেরেছে। কিন্তু বিএনপি যতোবার বিরোধীদলে থেকেছে, তারা সেই ভ‚মিকাটাও পালন করতে পারে নাই। তার ফলে যেটা হয়েছে রাজনীতি যারা করে, রাজনীতির মাধ্যমে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যায়, জনগণের সাঙ্গে তাদের বিরাট দূরুত্ব তৈরি হয়ে যায়। জনগণের সঙ্গে যখন দূরুত্ব তৈরি হবে, তখন সুশাসন কাকে নিয়ে হবে।

কার মাধ্যমে সুশাসন মানুষের জীবনে বাস্তবায়িত হবে। সেখানে যে প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরি হবে, প্রতিষ্ঠানগুলি কি জনগণের সঙ্গে দায়বদ্ধ থাকবে? নাকি যারা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করছে তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকছে। বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠির কাছে দায়বদ্ধ থাকছে, যারা ক্ষমতার সঙ্গে হয় সরাসরি জরিত, নয় সামাজিকভাবে, নয় কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত আছে তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকছে। এই প্রশ্নগুলি কিন্তু আমাদের জীবনে একটি কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

সর্বাধিক পঠিত