প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থসংকটে ঠাকুরগাঁও চিনিকল, আখচাষীরা পাবে ৮ কোটি টাকা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও চিনি কলে আখ সরবরাহ করে টাকা পাচ্ছে না কৃষকরা। পাওনা টাকার জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে তারা। ঋণগ্রস্থ কৃষকরা মহাজনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ছাড়ছে বলে দাবি করেছেন জেলা আখচাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তুজা।

জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া গ্রামের আখচাষী রিপন হেমরন চিনিকলে বাকিতে আখ দিয়ে টাকা পায়নি এক মাসেও। সার ও কীটনাশক দোকানে পাওনা টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে সোনালী হেমরন জানায়, তার বাবা মহাজনের অত্যাচারে বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

এদিকে সদর উপজেলার উত্তর হরিহরপুর গ্রামের আখচাষী আইয়ুব আলীর স্ত্রী জাহারুন গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানান আইয়ুব আলী। একই পরিণতির কথা জানালেন নারগুন গ্রামে কৃষক জয়নাল আবেদীন।

গত ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে ঠাকুরগাঁও চিনি কলে আখমাড়াই শুরু হয়। ২০১৮-২০১৯ মাড়াই মৌসুমে এ পর্যন্ত মিলটি ৫৫ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে। আর চিনি উৎপাদন করে ২ হাজার ৭’শ ১০ মেট্রিক টন। গত বছরের চিনি মজুদ রয়েছে ৪ হাজার মেট্রিক টন। চিনি বিক্রি করতে না পারায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে উত্তর জনপদের একমাত্র ভারি এই শিল্পটি।

চিনিকল সূত্রে জানাগেছে, মিলের ৭টি সাবজোনের ২১ টি ক্রয় কেন্দ্রের প্রায় ৫ হাজার চাষীর সাড়ে কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। মিল চালু হওয়ার পাঁচ দিন কৃষকদের আখের মুল্য দেয়া হয়। এরপর বাকিতে কেনা হয়েছে আখ। এতে কৃষকদের পাওনা দাড়িঁয়েছে ৮ কোটি টাকা ।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে চাষীরা। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি দেন তারা।

আখচাষীদের দুর্ভোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন দ্রুত আখের দাম পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস শাহী বলেন, চাষিদের টাকা পরিশোধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সর্বাধিক পঠিত