প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির উপদেষ্টা হতে কাদেরের প্রতি রিজভীর আমন্ত্রণ!

অসীম সাহা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রতি একটি চমৎকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কাদের যেন বিএনপিতে যোগ দিয়ে তাদের উপদেষ্টা হিশেবে কাজ করেন। কেন এই আমন্ত্রণ? কারণ ওবায়দুল কাদের নাকি সব সময় বিএনপির মতো একটি দলকে শুধু উপদেশ দেন। তো, উপদেশ যদি দেবেনই, তা হলে অন্য দলে থেকে কেন? বিএনপিতে উপদেষ্টা হিশেবে যোগ দিয়ে দিলেই তো তা দিতে পারেন। কথাটা কিন্তু রিজভি আহমেদ মন্দ বলেননি। কিন্তু যোগ দেয়ার পথে রিজভিই তো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে তিনি উপদেষ্টা হিশেবে যোগ দেয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে বিএনপি সম্পর্কে উল্টাপাল্টা বলেন বলে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন! তা হলে কী করে হবে? কাউকে নিজেদের দলে যোগ দেয়াতে হলে তো আদব-কায়দার সঙ্গে গলায় মালা দিয়ে বরণ করে নিতে হয়। রিজভী আহমেদ কি তাতে রাজি আছেন? আর যদি রাজিও থাকেন, তা হলেও বিএনপির সিনিয়র নেতারা কি তা মেনে নেবেন? আর বিএনপির সিপাহশালার তারেক রহমানের গ্রীন সিগন্যাল? সেটা লাগবে না? এ-ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে রিজভী আহমেদ কী করে এমন একটি অলক্ষুণে আমন্ত্রণ দিতে পারলেন, তা নিয়ে নিশ্চয়ই তাদের দলের মধ্যে কানাঘুষা চলছে! তা ছাড়া এর আর একটি দিকও আছে। ওবায়দুল কাদের এখন আওয়ামী লীগের মতো একটি বিশাল দলের সাধারণ সম্পাদক এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রী। তিনি কেন বিএনপির উপদেষ্টা হিশেবে যোগ দিতে যাবেন, যদি না তিনি যথাযথ মর্যাদা পান? বিএনপির উপদেষ্টার পদের কোনো গুরুত্ব নেই। এখানে আর্থিক লাভালাভেরও কোনো সুযোগ নেই! তা হলে তিনি লাভজনক পদ ছেড়ে অলাভজনক পদে কেন অধিষ্ঠিত হতে যাবেন? এক হতে পারে, খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের পদটি বলতে গেলে খালিই আছে। রিজভী আহমেদ ও বিএনপি সেখানে ওবায়দুল কাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন। তাতে কি বিএনপির সিনিয়র নেতারা রাজি হবেন? আবার প্রমোশন ছাড়া কাদেরই বা কেন বিএনপিতে উপদেষ্টা হতে যাবেন?

কথাটা স্পষ্ট করতে হবে রিজভীকে। তা ছাড়া ওবায়দুল কাদেরকে দলে নেয়ার ঝুঁকি শামলানোর শক্তি কি রিজভীর আছে? কাদের সত্যি সত্যি যদি বিএনপিতে চলে যান, তা হলে স্বভাবদোষ তিনি দূর করবেন কী করে? সেই স্বভাবদোষে কাদের যদি খালেদা জিয়াকেও ‘নোয়াখাইল্যা’ পেয়ে নোয়াখালীর প্রমিত ভাষায় নয়, একেবারে নোয়াখালীর খাস ভাষায় গালি দিতে শুরু করেন, তখন কী অবস্থা হবে? আমন্ত্রণ জানানোর আগে রিজভী আহমেদ সম্ভবত এসব বিষয় নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করেননি!

তারপরও আরো অনেক কথা আছে। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সিনিয়র নেতা। এতোদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিশেবে মেনে এসেছেন। এখন কি তিনি পিতা বদল করে জিয়াউর রহমানকে ফের পিতা বলে মেনে নিতে পারবেন?

এ-সব প্রশ্নের সমাধান না করে রিজভী আমন্ত্রণ জানালেই কাদের বিএনপির উপদেষ্টা হতে লাফ মেরে চলে যাবেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তারচেয়ে রিজভী আহমেদ একটা কাজ করলেই পারেন। বিএনপির তো আসলে তাকে কোনো প্রয়োজন নেই; বরং তারই দরকার বিএনপিকে। আসলে তিনি তো বিএনপিতে গৃহপালিত প্রেসরিলিজ প্রেরক ও প্রেসব্রিফিং সম্পাদক! এটা তার জন্যে অপমানজনক! তিনি এটা ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেই পারেন। কারণ, তিনি তো শুধু আওয়ামীকে লীগকে নয়, স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকেও কখনো কখনো ভয়ংকর আক্রমণ করে গালি দিয়েছেন! তার জন্যে ওবায়দুল কাদের কি তাকে কখনো আওয়ামী লীগে যোগদান করতে বলেছেন? গালি ঠেকানোর জন্যে দল বদল করার আমন্ত্রণ কি নতুন কোনো সংস্কৃতির উন্মোচন? যদি হয়, তা হলে বাংলাদেশের ইতিহাসে রিজভী আহমেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে!

আর যদি নতুন সংস্কৃতিতে নাম লেখানোর জন্যে ওবায়দুল কাদের কখনো তাকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান, তা হলে তিনি যেন দেরি না করে যোগ দেন। তাতে করে রিজভির গালি থেকে আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রী শেখ হাসিনা যেমন বাঁচবেন, তেমনি রিজভীর আম ও ছালা দুটোই রক্ষা পাবে। ব্যাপারটা নিয়ে তিনি সিরিয়াসলি ভাববেন, এটাই সকলের প্রত্যাশা। ততোদিন নার হয় তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা যাক!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত