প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মানবসম্পদের যথার্থ উন্নয়ন হবে : ড. সা’দত হুসাইন

নাঈমা জাবীন : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হুসাইন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে আমরা গর্ব অনুভব করি। দেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে সে রকম ধারণা হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের নারীরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে দ্রুত এগিয়ে চলছে এ বিশ্বাস নিয়ে অনেকেই লেখালেখি করেন। অথচ ২০১৬ সালে সেভ দ্য চিলড্রেনের ‘গার্লস অপরচুনিটি ইনডেক্সে’ দেখা যায় ১৪৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১তম, যা নিচের দিকে পড়ে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া আর সব দেশের নিচে। এমন তথ্য আমাদের উন্নয়নের ধারণার সঙ্গে মেলে না। কী কারণে এমন অমিল হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সূত্র : কালের কণ্ঠ
তিনি বলেন, পরিবেশের মানের দিকে আমাদের অবস্থা কোনো সময় ভালো ছিলো না। দখল-বেদখলের মধ্য দিয়ে আমরা পরিবেশকে অনেকদিন থেকে বিপর্যস্ত করে চলেছি। বেপরোয়া অপরিকল্পিত নির্মাণ, রাস্তাঘাটে অসম্ভব যানজট, নিয়ম-কানুন না মেনে গাড়ি চালানো, পথচলা, কাটাকাটি, খোঁড়াখুঁড়িতে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, ধূলিদূষণ, আরো কতো কী। ফলে বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থান কখনো এক নম্বরে, কখনো দুই নম্বরে। শীর্ষ যানজটের শহর হিসেবেও বিশ্বের ২০৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে। যানজটে দিনে নষ্ট হয় পঞ্চাশ লাখ কর্মঘণ্টা, বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাঁইত্রিশ হাজার কোটি টাকা। আমাদের উন্নয়নের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন একান্ত কাম্য।
তিনি আরো বলেন, অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে মানবসম্পদের উন্নয়ন। দেশের উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে যখন প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মানবসম্পদের যথার্থ উন্নয়ন হবে। যদি দেখা যায়, ঘোষিত প্রবৃদ্ধির তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়ন লক্ষণীয়ভাবে পিছিয়ে আছে, তবে সন্দেহ করা যৌক্তিক হবে যে, হয় সে প্রবৃদ্ধি নাজুক অর্থাৎ টেকসই নয়, অথবা ঘোষিত প্রবৃদ্ধির হার সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। এই মানদ-ের বিপরীতে আমাদের উন্নয়ন পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেকর্ড সুখকর নয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ নিতান্তই অপ্রতুল। ১৯১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিলো মোট বাজেটের ১১.৪ শতাংশ, যা আগের বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে কম। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিলো বাজেটের ৫ শতাংশ মাত্র, যা পরিবহন ও যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার, প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং কৃষির চেয়ে ছিলো কম। দুই খাতেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবং ভিয়েতনামের তুলনায় বরাদ্দ নগণ্য মনে হয়। ফলে দেখা যায় ২০১৭ সালে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্বের ১৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ১১১তম, যা তার আগের বছরের তুলনায় সাত ধাপ পিছিয়েছে। এর আগের বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ১০৪তম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত