প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পঞ্চাশ বছর ধৈর্য ধরে কী পেলাম?

আশালতা বৈদ্য : জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচন নিয়ে দুটি কথা না বললে মৃত্যুর পূর্বে যে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে মরতে হবে তা হবে আত্মঘাতী ।
একটি জীবন এর সংক্ষিপ্ত প্রকাশ : ১. ১৯৬৯-এ বঙ্গবন্ধুর মঞ্চে রাজনীতিতে প্রবেশ। ২. ১৯৭৫ পরবর্তী ৪ নভেম্বর জেলহত্যার প্রতিবাদ মিছিল বের করা। ৩. ৪ নভেম্বর হলের সিট বাতিল হওয়া। ৪. ২৭ নভেম্বর পুলিশ দ্বারা গ্রেফতার হওয়া। ৫. ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েও কোনো সুযোগ গ্রহণ না করা। ৬. একটানা একই রাজনীতির মাঠে পঞ্চাশ বছর থাকা। ৭. ১৯৯১-এ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দুই নম্বর ফরম কিনে ঢাকার রাজপথ কোটালীপাড়া থেকে নির্বাচিত করা। ৮. চরিত্র বিকিয়ে না দেয়া। ৯.কৃষক লীগে ১৯৮৩ থেকে ২০১৯সহ-সভাপতি হয়েও মূল্যহীন হওয়া। ১০. আট কোটি মহিলার মধ্যে দশজনের তালিকায় অনন্য শীর্ষ দশের একজন হওয়া। ১১. সমগ্র বিশ্ব জরিপে নোবেলে বাছাই হওয়া। ১২. সমগ্র বাংলার শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচিত হওয়া। ১৩. সমগ্র বিশ্বের কৃষক ফেডারেশনে এশিয়া মহাদেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া। ১৪. সমগ্র বাংলাদেশে সমবায়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সমবায় ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে থাকা।
১৫. মহান মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র মহিলা গ্রুপ কমান্ডার হওয়া। ১৬. ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সংগ্রাম, আন্দোলনে রাজপথে থাকা ইত্যাদি অর্জনগুলো একবারও চোখে না পড়া। রাজনৈতিক কারণে ৭৫-পরবর্তীতে অসংখ্য মামলার আসামি হওয়া, এরশাদ আমলে ৪২, খালেদার আমলে ২৭ মামলার আসামি হওয়াসহ একটানা নির্যাতিত হওয়ার পরও যখন আওয়ামী রাজনীতিতে দয়ার সংসদ জুটলো না, তাহলে করার কী আর থাকে!
৯১তে আপনাকে নির্বাচিত করার পর কোটালীপাড়া গিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন আমাকে,আমার দ্বারা সৃষ্ট সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দেখবেন। নেই বঙ্গবন্ধু, ফণিভূষণ মজুমদার, মোল্লা জালাল, আব্দুর রাজ্জাক, ফ্লাইট সার্জন ফজলুল হক, রাশেদ মোশাররফসহ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ, তাই তো মূল্যায়িত হওয়ারও সুযোগ নেই।
আপনি সমগ্র দেশ দেখেন, তাই খোঁজ নিতে সময় হয় না হতভাগা কোটালীপাড়ার দুই লক্ষাধিক মানুষের অধিকার কীভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ভাগ্যে জোটে না সংসদীয় সনদে কোনো সুপারিশও। আজ অবধি কোটালীপাড়ায় কোনো প্রতিনিধি দেননি। আপনার ক্ষমতা প্রদান করেন গোপালগঞ্জের মানুষদের। কিন্তু কেন? চোখ খুলুন, আমাকে না দিলেও ওই অভাগা কোটালীপাড়ার একজনকে আপনার দায়িত্ব দিন। যিনি কোটালীপাড়াসহ মানুষের প্রয়োজনের কথা শুনবে। কোটালীপাড়ার হাসপাতালের দুরবস্থা আপনি জানেন না। কেন বলেন, ত্যাগী, যোগ্য, অধিকারবঞ্চিতদের সুযোগ দেবেন?
টানা পঞ্চাশ বছর ধৈর্যই ধরেছি। আর তো জীবনে সময়ই নেই, প্রাপ্তির প্রত্যাশাও সমাপ্ত। সততা, নিষ্ঠা, শিক্ষা, ত্যাগের মূল্য কী পেলাম? এই চমকে তুষ্ট হতে না পারার অপরাধ মার্জনা করবেন। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত