প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

থানায় পুলিশের পিটুনিতে মৃত্যু জনির পরিবার বিচার পায়নি ৫ বছরেও (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক: থানা হেফাজতে পুলিশের নির্যাতনে গাড়ি চালক জনি হত্যা মামলার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও বিচার পায়নি নিহতের পরিবার। নানাভাবে মামলা বিলম্বিত করা ও আসামিপক্ষ থেকে হুমকি দেয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশ বাদীপক্ষ। এ অবস্থায় বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নিহতের মা। তথ্য- সময় টিভি

সন্তান হারানোর বেদনা কোনোদিনই মুছবে না খুরশিদা বেগমের। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে জনিকে হত্যা মামলার পর পেরিয়ে গেছে ৫টি বছর। আইনের মার-প্যাঁচে আসামিপক্ষ বিলম্বিত করছে বিচার কাজ এমনটাই অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

নিহতের মা খুরশিদা বেগন বলেন, ‘এই জজকোর্ট দিয়ে ইাইকোর্টে গেছে বিচার,খরচা কইরা এই পযন্ত রইলাম। কিন্ত ঠিক মতো বিচার পাইতেছি না। প্রধানমন্ত্রীরও তো নিজের বাবাকে হারাইছে, সে তো বুঝে কেমন ব্যথা, আপনার ওপর শেষ ভরসা আপনি আমাদের উপর খেয়াল রাইখেন।’

মামলার বাদী নিহত জনির ভাই রকি বলেন, ‘দুই বাচ্চাকে পুলিশ সদস্যরা এতিম করেছে। তাদের দ্রুত বিচার করা হোক।’

থানা হেফাজতে নির্যাতন করে জনিকে হত্যার মূল হোতা এসআই জাহিদ ও ২ এএসআই সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার পর ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হয় বিচার কাজ। প্রায় আড়াই বছরে সাক্ষ্যগ্রহণ হয় মাত্র ৩ জনের। পরে গত বছরের মার্চে জামিনে থাকা দুই এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুর পক্ষ থেকে মামলা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হলে স্থগিত হয়ে যায় মামলার কার্যক্রম।

আসামি পক্ষের আইনজীবি সৈয়দ নাজমুল করিম তামিম বলেন, ‘এই দুজনের বিরুদ্ধে যাতে করে মামলাটা না চলে। কারণ এই পিটিশন দেখে জিনিসটা ক্লিয়ার যে তাদের পক্ষে এই মামলায় কোনো ইলিগেশন পরিষ্কার হবে না।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম বলেন, ‘থানা হেফাজতে থেকে নির্যাতনে সে মারা গেছে। এই মেডিকেল রিপোর্ট আছে যে তার শরীরে গুরুতর আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। এবং পরবর্তীতে যে মারা গেছে।’

জামিন পেয়ে পুলিশের দুই এএসআই রাশেদুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান মিন্টু মিরপুর ও গুলশান থানায় কাজে যোগ দিয়েছেন। মামলাটি আপস করতে তারা দারস্থ হয় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে।

ঢাকা-১৬ সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমার কাছে সবাই আসবে। কিন্ত যে অন্যয় করবে তাকে তো আমি প্রশয় দিবো না। আদালতের কাছে আমি জোর দাবি করবো, যত দ্রুত সম্ভব আমি এই মামলার বিচার চাই।’

২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মিরপুরের ইরানী ক্যাম্প এলাকায় একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্স সুমনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক জনির। সেই রাতেই তৎকালীন পল্লবী থানার এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য জনিকে থানা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে প্রাণ হারান জনি। জনি হত্যা ছাড়াও মিরপুরের ঝুট ব্যবসায়ী সুজন হত্যাসহ অনেককে থানায় এনে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে ।

সর্বাধিক পঠিত