প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মে. জে. (অব.) আব্দুর রশিদ বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বৌদ্ধদের পালিয়ে আসার ঘটনাটিকে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের ব্যবহার করতে হবে

আমিরুল ইসলাম : মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যার মুখে দশ লাখেরও বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের পর এবার পালিয়ে আসছে শত শত বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। বাংলাদেশ এখন কী করবে? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এ ঘটনাটাকে যদি আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে পারি তাহলে সেটা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ও গতিবেগ তৈরি করবে। কূটনীতিকরা এটা তুলে ধরতে পারলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত আন্তর্জাতিক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাকালে তিনি বলেন, সেখানকার আভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় আগের সমস্যা আর বর্তমান সমস্যা দুটো দু’ধরনের। সেখানকার সামরিক বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে নামলে সাধারণ মানুষ ভীত সম্ভস্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহণের চেষ্টা করে। আমি মনে করি সামরিক অভিযানে বড় ধরনের ত্রুটি আছে তাদের। সে ত্রুটির কারণেই এবার চীন রাজ্য থেকে বৌদ্ধরা বাংলাদেশে চলে আসছে। বাংলাদেশের কূটনীতিকরা যদি এটি ব্যবহার করতে পারে সেটি বাংলাদেশের পক্ষে আরো শক্ত আন্তর্জাতিক অবস্থান তৈরি করবে। এতোদিন তারা একটি ধর্মভিত্তিক অপ্রপচার চালিয়েছেন, এখন সেটি থেকে মুক্ত হওয়া যাচ্ছে। সেখানে অপারেশনের নামে সাধারণ মানুষের ওপর সামরিক বাহিনী যে অত্যাচার করে সেটা সত্য প্রমাণিত হলো।

তিনি আরো বলেন, এখন তো বাংলাদেশের সীমান্তে তাদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন মিয়ানমারের চীন রাজ্যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে এর সাথে ভারতেরও সীমানা আছে। বাংলাদেশে তারা অবস্থান নিতে না পারলে তারা অবশ্যই মিজোরাম রাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করবে। সেক্ষেত্রে আমরা আগে যেটা বলেছিলাম, এ ধরনের সমস্যা এক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতোদিন রোহিঙ্গা সমস্যাকে অনেকে বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা বলেছি, এ সমস্যাগুলো অঞ্চলকে আক্রান্ত করে সেইসাথে বৈশি^ক সমস্যা তৈরি করে। বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে এটা যখন ছড়িয়ে পড়বে তখন আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি। এই ঘটনাটাকে আমাদের কূটনীতিতে ব্যবহার করা উচিত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসানের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করার জন্য। তাই আমি বলবো ঘটনাটি একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত