প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রিটার্ন না দেয়া ১৮ লাখ করদাতার বিষয়ে খোঁজ নেবে এনবিআর

বণিক বার্তা : ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ারস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ই-টিআইএন) নেয়ার পরও চলতি অর্থবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেননি ১৮ লাখের বেশি করদাতা। এসব করদাতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে করদাতার নিজ নিজ করাঞ্চল থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে এরই মধ্যে নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে করদাতাদের নোটিস দিয়ে তথ্য চাইবে এনবিআর।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন কাজে করদাতা শনাক্তকারী নাম্বার (টিআইএন) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেকেই এনবিআর থেকে ই-টিআইএন গ্রহণ করছেন। তবে আয়কর থেকে দূরে থাকতে বা করযোগ্য আয় না থাকায় অনেকেই রিটার্ন দিচ্ছেন না। আয়কর আইনে করযোগ্য আয় না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও কেউ কেউ এ সুযোগে আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছর মোট ই-টিআইএনধারীর অর্ধেকের বেশি রিটার্ন জমা না দেয়ায় তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে তাদের ই-টিআইএন নেয়ার কারণ ও তারা প্রকৃত অর্থেই করের আওতার বাইরে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের তাদের নিজ নিজ করাঞ্চল থেকে এ পর্যালোচনা করা হবে।

জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, করদাতা ৩৮ লাখের বেশি হলেও চলতি অর্থবছর সময়ের আবেদনসহ প্রায় ২০ লাখ করদাতার রিটার্ন পেয়েছি। ১৮ লাখ করদাতা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেননি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। ই-টিআইএনধারীরা যে সার্কেল থেকে করদাতা শনাক্তকরণ নাম্বার নিয়েছেন, সেসব সার্কেল থেকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। ই-টিআইএন নিয়েও কেন রিটার্ন দেননি, সেজন্য করদাতা বরাবর নোটিস পাঠানো হবে। যেসব করদাতার আয় করমুক্ত, তাদের বিষয়ে আমাদের কোনো কথা থাকবে না। আর যেসব করদাতা বিভিন্ন কারণে রিটার্ন দেননি, তাদের জরিমানাসহ রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা হবে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বিগত করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ সময় ছিল ২ ডিসেম্বর। ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ৩৮ লাখ ২০ হাজার হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ১৬ লাখ ৯২ হাজার করদাতা। আর আবেদনের মাধ্যমে সময় নিয়েছেন আরো ৩ লাখ ১৫ হাজার করদাতা। রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পরও কর-সংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ১৮ লাখ ১৩ হাজার করদাতা। আগের বছর করদাতার সংখ্যা ২৯ লাখ থাকলেও রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৪। আর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন ছিল আরো ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৬ জনের। সব মিলিয়ে গত কর বছরে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ জন টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। সে হিসাবে চলতি বছর ই-টিআইএনধারীর তুলনায় রিটার্ন দাখিল কমেছে। ফলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বেশি জোর দিচ্ছে এনবিআর।

জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত টিআইএন নিলেই আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ছিল করদাতার জন্য। করভীতি কমাতে ও করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয় এনবিআর। বর্তমানে আয়কর আইন অনুযায়ী ই-টিআইএন থাকলেই রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে করদাতার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন হলে, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা বা নির্বাহী পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করলে, একটি গাড়ি বা বাড়ি থাকলে, কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা ফার্মে অংশীদারিত্ব থাকলে, কোম্পানি বা গ্রুপ অব কোম্পানির পর্ষদে থাকলে, জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হলে, জনপ্রতিনিধি হলে, কোনো ক্লাবের সদস্য হলে, শহর অঞ্চলে ট্রেড লাইসেন্স থাকলে, পেশাজীবী (চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার অথবা সমজাতীয় পেশাজীবী) হলে, আয়কর পেশাজীবী হলে, কোনো বণিক বা শিল্প-বিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্যপদ থাকলে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা স্থানীয় সরকারে কোনো টেন্ডারে অংশগ্রহণ করলে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

উল্লিখিত ক্যাটাগরির মধ্যে কোনো ই-টিআইএনধারী আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে তাদের আয়কর আইন অনুযায়ী জরিমানা গুনতে হবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ না দেখাতে পারলে পূর্ববর্তী কর বছরে নির্ধারণ হওয়া আয়করের ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। তবে এটি ১ হাজার টাকার কম হতে পারবে না। এর সঙ্গে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হিসাব করতে হবে। এ দুটির যোগফলের মধ্যে যেটি বেশি, তা হবে ব্যক্তির জরিমানা। অন্যদিকে নতুন করদাতার ক্ষেত্রে এ জরিমানা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত