প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জটিলতা এড়াতে বন্ধ মোবাইল কোর্ট

সমকাল : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক-সংশ্নিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা বন্ধ রয়েছে। এতে মাঠ পর্যায়ে মাদক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা। তারা বলছেন, মাদকসহ ধরা পড়ার পর খুচরা বিক্রেতা কিংবা সেবনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দিলে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করে। এতে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবহার কিছুটা হলেও হ্রাস পায়।

জানা গেছে, গত বছরের শেষের দিকে কার্যকর হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এ তফসিলভুক্ত হয়নি। এ কারণে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে কোনো নির্দেশনা ছাড়াই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন এমন একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলছেন, তফসিলভুক্ত হওয়ার আগেও মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে পরবর্তী সময়ে আইনি ‘জটিলতার’ আশঙ্কায় অভিযান কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তফসিলভুক্ত হওয়ার পরই আবার অভিযান শুরু হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী চলছে বিশেষ অভিযান। মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ করার কার্যক্রমও চলছে। এ রকম সময়ে বন্ধ আছে মোবাইল কোর্ট। পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবারও প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মাদক শুধু একটা পরিবার না, একটা দেশকে ধ্বংস করে। তাই মাদক ও কারাবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এর আগে গত বছরের ৩ মে কুর্মিটোলা সদর দপ্তরে র?্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। এর পরই শুরু হয় দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান। এ বছর মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এ মাসের মাঝামাঝি বহু মাদক কারবারির আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর ৫৭ ধারায় মোবাইল কোর্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘এই আইনে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেনো, মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর অধীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিচারকাজ সম্পাদন করা যাবে।’

মোবাইল কোর্ট আইন তফসিলভুক্তির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ/সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারসহ দেশের সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়- ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ গেজেট আকারে প্রকাশ হয় গত ১৪ নভেম্বর। ২৭ ডিসেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়। উক্ত আইনের ৫৭ ধারায় এই আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর ৬(২) ধারায় তফসিলভুক্ত অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্টের আওতায় বিচার্য। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী রহিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত করা হয়নি।’ এই আইনটি তফসিলভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্নিষ্ট বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয়।

এই চিঠি হাতে পাওয়ার পরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এই চিঠিতে মোবাইল কোর্ট চালাতে নিষেধ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তফসিলভুক্ত না হলেও নতুন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী অভিযান চালানো যায়। কিন্তু আইনি জটিলতা এড়াতে ১৮ জানুয়ারি থেকে মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জানা গেছে, কয়েকটি জেলায় মোবাইল কোর্ট চলছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট আইনটি তফসিলভুক্ত না হওয়ায় অনেক জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বন্ধ আছে। তফসিলভুক্ত করার জন্য সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলব।’

অন্যান্য জেলার মতো নারায়ণগঞ্জেও বন্ধ রয়েছে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন,’ ৫৭ ধারায় বলা আছে- মোবাইল কোর্ট চালানো যাবে। তবে তফসিলভুক্ত না হওয়ায় এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তফসিলভুক্ত হলে ব্যাপকভাবে মোবাইল কোর্ট চালানো হবে।’

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাড়া-মহল্লা কিংবা বস্তিতে খুচরা বিক্রেতারা মাদক বিক্রি করে। তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে সেবন করে মাদকাসক্তরা। অভিযান চালিয়ে তাদের কাছে সাধারণত সামান্য মাদক পাওয়া যায়। তাদের নিয়মিত মামলায় চালান দিলে পরবর্তী সময়ে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় তাদের ধরলে অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই তাৎক্ষণিক সাক্ষীর উপস্থিতিতে আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়। এতে খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীরা আতঙ্কে থাকে। মাদকের সরবরাহ ও চাহিদা কম থাকলে সমাজে মাদক বিস্তার কমে যাবে। চাহিদা কমাতে মাদকসেবীর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের সাজা প্রভাব ফেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন্স ও গোয়েন্দা) ডিআইজি ড. এএফএম মাসুম রব্বানী বলেন, মাঠপর্যায়ে মাদকের চাহিদা কমাতে মোবাইল কোর্টের বিকল্প নেই। তাৎক্ষণিক সাজায় মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতারা আতঙ্কে থাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত