প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রেনে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম

আমাদের সময় :  ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে বর্তমানে সবচেয়ে কম সময় ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে পৌঁছে দিচ্ছে বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘সোনার বাংলা’। অন্যান্য ট্রেনে লাগছে সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। এ পথের যাত্রীদের আরও সুখবর দিচ্ছে লাকসাম-আখাউড়া ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পথিমধ্যে কোনো ক্রসিং থাকবে না। ফলে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রেলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আগামী বছর থেকেই যাত্রীদের এ সুবিধা দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, লাকসাম-আখাউড়া ৭২ কিলোমিটার ডাবল রেললাইন নির্মাণকাজের ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পুরোটাই (৩২৫ কিলোমিটার) ডাবল লাইনে উন্নীত হবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন ভ্রমণ দেড় ঘণ্টা কমে ৪ ঘণ্টায় নেমে আসবে। একই সঙ্গে একাধিক বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা যাবে।
রেলের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৩২৫ কিলোমিটারের মধ্যে এরই মধ্যে ২৫৩ কিলোমিটার ডাবল লাইন হয়ে গেছে। লাকসাম-আখাউড়া ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন হয়ে গেলে উভয় পথে চলাচলকারী ট্রেনকে কোথাও অপেক্ষা করতে হবে না। ফলে সময় অনেক কমে আসবে। তখন সাড়ে ৪ ঘণ্টায় এ পথে যাতায়াত করা যাবে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ৩২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১১৮ কিলোমিটার ডাবল লাইন ছিল। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই পুরো লাইন ডাবলে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালে টঙ্গী-ভৈরববাজার পথে ৬৪ কিলোমিটার ও লাকসাম-চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ করে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সোনার বাংলা ট্রেনটি ঢাকা থেকে সকাল ৭টায় যাত্রা শুরু করে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছে। অর্থাৎ ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছেছে। একইভাবে গত বুধবার সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে দুপুর ১২টায় ঢাকা স্টেশনে পৌঁছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস। এদিন বেলা ৩টায় গোধূলি এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তূর্ণা এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে।
রেল কর্মকর্তারা জানান, সুবর্ণ এবং সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি বিরতিহীন হওয়ায় ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। বাকি ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দেওয়ার কারণে ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এর মধ্যে ৫০ মিনিট ব্যয় হয় বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন ক্রসিং দেওয়ার কারণে। ডাবল লাইনের কাজ শেষ হলে ক্রসিং দিতে হবে না।
সূত্র জানায়, ব্র্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ৬ হাজার ৫০৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। দেশি-বিদেশি তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ করছে। ৭২ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ১৩টি বড় ব্রিজসহ মোট ৪৬টি ছোট-বড় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রেলপথে কম্পিউটারাইজড সিগন্যাল ব্যবস্থাপনাসহ আখাউড়া ও লাকসাম রেলস্টেশনসহ ১১টি বি-ক্লাস রেলস্টেশন নির্মাণ হচ্ছে।

এডিবি ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং সরকারের নিজস্ব (জিওবি) অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিমূল্য ২৩১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৩ টাকা। ম্যাক্স ও তমা কনস্ট্রাকশন এবং চায়নার একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ করছে। নির্মাণকাজ তদারকির জন্য দেশি-বিদেশি পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে তদারকি করছে।
প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিরতিহীন ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে এবং লাইন ক্যাপাসিটি ২৩ জোড়া থেকে বেড়ে ৭২ জোড়ায় উন্নীত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ট্রেন লাইনচ্যুতি ও দুর্ঘটনা কমবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত