প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহজালালে নিরাপত্তা পাসই বড় ঝুঁকি

আমাদের সময় : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায়ই ধরা পড়ছে স্বর্ণসহ নানা অবৈধ পণ্যের চালান। আটক করা হচ্ছে এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের। তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শাহজালালের নিরাপত্তা পাস নিয়ে বছরের পর বছর ধরে তারা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় অপকর্ম করে আসছেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বহিরাগতরাও টাকার বিনিময়ে পেয়ে যাচ্ছে বিমানবন্দরে প্রবেশের নিরাপত্তা পাস। এ পাস ব্যবহার করে তারাও চোরাচালানিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে আসছেন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ বছরে ইস্যু করা ১৬ হাজারের বেশি নিরাপত্তা পাস ব্যবহারকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটিকে চলতি মাসেই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রাণলয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সিভিল অ্যাভিয়েশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ১৬ হাজার নিরাপত্তা পাস এখন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রায়শই তাদের বিব্রত হতে হয়।

শাহজালালের নিরাপত্তা পাস নিয়ে শুধু সিএবি কর্তৃপক্ষই চিন্তিত নয়, বিষয়টি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রাণলয়েরও। গত ২৪ জানুয়ারি সিলেটে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় খোদ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘বিমানবন্দরে ভিআইপি পাসের সুযোগ নিয়ে স্বর্ণপাচার ঠেকাতে ১৬ হাজার পাস বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে আস্থার সংকট খুঁজে বের করে দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে। ভিআইপি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেউ যদি স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হয় তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিমানের পুরো সক্ষমতা বাড়াতে সব ধরনের নজরদারি থাকবে বলেও প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী জানান।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩০টি সংস্থা কাজ করে। এ ছাড়া রয়েছে ব্যাংক, বীমা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, কারপার্কিং, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদের প্রত্যেককেই নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্যাডে লিখিত দিয়ে গ্রহণ করতে হয় নিরাপত্তা পাস। এ প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরের ইস্যুকৃত পাস হাতে পাওয়ার আগে পুলিশের ছাড়পত্র নিতে হয় তাদের। এত নজরদারির পরও একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গুরুত্বপূর্ণ এ পাস নিয়ে সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় ঢুকে নানা অপকর্ম ঘটিয়ে সটকে পড়ছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি যাত্রীর প্রটোকলে আসেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি নিয়েছিলেন প্রটোকল পাস (নম্বর-০০২৮)। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে দুটি ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। নাটকীয়ভাবে সেই সময় সিরাজ পালিয়ে গেলেও তার ব্যাগ থেকে ১৬ কেজি ১০০ গ্রাম স্বর্ণ ও ১০০টি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা। ওই স্বর্ণ চোরাকারবারিকে বিমানবন্দরে প্রটোকল দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার ভুয়া প্রটোকলসংক্রান্ত কাগজপত্রে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ের বাইরের এক ব্যক্তি ইউনুস সিরাজকে প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

১৬ কেজি স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে সিরাজুল ইসলাম ও চোরাকারবারি সাইফুলের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে পাস ইস্যুর ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ৫ বছরে প্রদান করা পাস গ্রহিতাদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সভা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কোনো পাস গ্রহিতার বিষয়ে তথ্য গরমিল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন করে পাস ইস্যুর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পাশাপাশি কেউ যেন পাস নিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলেও পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুকী জানান।

সর্বাধিক পঠিত