প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আতঙ্কে বুক কেঁপে ওঠার দৃশ্য

মোহাম্মদ আবু নোমান : আপন দুই ভাই-বোনের ছিন্নভিন্ন কচি-কোমল, নিষ্প্রভ শরীর রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটি লাল, আরেকটি সবুজ আর কালো মেশানো স্কুলব্যাগ পড়ে আছে। তাদের শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে রক্ত। মেয়েটির দুই পা শরীরের সঙ্গে আর নেই। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পা দু’টির মাংস পড়ে আছে এলোমেলোভাবে সড়কের ওপর। যেখানে আদরের ছোট ভাইটির মাথা থেঁতলে রয়েছে, ঠিক সেখানে বোনটির নিথর, নিষ্প্রাণ শরীর। কতো ভয়াবহ, নির্মম, বেদনাদায়ক ও আতঙ্কে বুক কেঁপে ওঠার খবর ও দৃশ্য। কীভাবে, কোন ভাষায় সান্ত¡না দেয়া যাবে কচি শিশু দু’টির ‘মা’কে। কী নিয়ে বেঁচে থাকবেন শিশু ফাতিমা আফরিন ও আফসার হোসেনের মা। পৃথিবীর কোনো অভিধানে আছে কী এমন ধ্বনি বা বাণী, যাতে শিশু দু’টির মায়ের কলিজা ঠা-া হবে? কোল খালি হওয়া সন্তান হারানো মায়ের আহাজারি ও বুকের আগুন নেভানোর সামর্থ্য কার আছে? ঘর-বাড়ি মাতানো সর্বদা হাস্যোহজ্জ্বল, প্রাণচাঞ্চল্য সন্তানের সাথে কী হয়েছিলো শেষ কথা? ছোট্ট সোনামনিদ্বয়ের কপালে আর চুমু দিতে পারবে না অভাগা মা। ‘কুরা’ করে আদর ও চুমু আদায় করা সোহাগিনী মায়ের সাথে ছলাকলা করে চকলেট আর আইসক্রিমের বায়না ধরবে না। ভাবা যায়! আজ এই মায়ের অবস্থান থেকে একথা কেউ কল্পনাও করতে পারবে কী?
নিহত ভাই-বোন হলো কেরানীগঞ্জের কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিমা আফরিন ও তৃতীয় শ্রেণির আফসার হোসেন। ২৮ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর মোল্লারপুল এলাকায় দানব ট্রাক তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভাই-বোন নিহত ও শিশু দু’টির বাবা ডালিম হোসেন গুরুতর আহত হয়। প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে তার প্রাণ থেকেও প্রিয় সন্তান। যা মা-বাবার সম্পদ। তা যদি হয় এভাবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু! তাহলে এই মা-বাবার কাছে সারা জীবনের জন্য চোখের ঘুম আর শান্তি থাকে কী? প্রতিদিনই এ রকম সম্ভাবনাময় ও স্বপ্নের অনেক জীবন সড়ক দুর্ঘটনার বলি হচ্ছে। এগুলো দেখার বা লাগাম টেনে ধরার কেউ নেই। মানুষের জীবনেরও যেন কোনো দাম নেই। স্বামী, সন্তানরা স্কুলে বা কমস্থলে বের হলে আর ফিরবে কিনা সে চিন্তায় বাড়ির মহিলাদের দিন কাটে। এভাবে কতোজনইতো আর ফিরে আসেনি। কতো অভাগা এতিম হয়ে গেলো বাবা-মা আপনজনকে হারিয়ে। তবু কেউ নেই দেখার। এটাই আমাদের নিয়তি। না, শুধু নিয়তি বললেই এসব মেনে নেয়ার মতো নয়। সড়ক দুর্ঘটনা একটি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ। যা কঠোর হাতে দমন করা জরুরি। কিন্তু বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের দাপটে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দিচ্ছে না। দ্রুত বিচার আইনে চূড়ান্ত শাস্তি দেয়া ছাড়া এসব ঘাতকদের থামান যাবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত