প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবে-দয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

আল-আমিন : সৃষ্ট-জীবের প্রতি দয়াময় আল্লাহর ভালোবাসার অন্ত নেই৷ তাই তার সৃষ্ট-জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে তিনি সন্তুষ্ট হন৷ অপরদিকে তার সৃষ্ট-জীবকে কষ্ট দিলে তিনি অসন্তুষ্ট হন৷ এ কারণেই দেখা যায়, বনী ইসরাইলের জনৈকা মহিলা একটি বিড়ালকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেললে তিনি তার উপর অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেন৷ পক্ষান্তরে জনৈকা পাপিষ্ঠ মহিলা তার ওড়নার আচল ছিঁড়ে মোজায় বেঁধে কূপের গভীর হতে পানি তুলে তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন৷

যে ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টজীবের প্রতি অনুগ্রহ করে সে ব্যক্তি আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় পাত্র৷ এ সম্পর্কে হজরত আনাস (রা) এবং হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, গোটা সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার পরিবার স্বরুপ৷ আল্লাহ তায়ালার কাছে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে প্রিয় যে ব্যক্তি তার সৃষ্টির প্রতি দয়া করে৷(বায়হাকী)

সৃষ্টি জগতের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ দয়া লাভ করা যায়৷ এসম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহকারীদের প্রতি দয়াময় আল্লাহ অনুগ্রহ বর্ষণ করেন৷ সুতরাং তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে আকাশের মালিক (আল্লাহ তায়ালা) তোমাদর ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করবেন৷(তিরমিযী ও আবু দাউদ)
সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষ আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি৷ তাই মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ৷ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না সে আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে ৷ এ প্রসঙ্গে হজরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না আল্লাহ তায়ালাও তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না৷ (বোখারী-মুসলিম)
বিধবা এবং মিসকীনদের প্রতি দয়া প্রদর্শনকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথের মুজাহিদ এবং দিনে রোযা পালনকারী এবং রাতে ইবাদতকারীর সমান সওয়াবের অধিকারী হবে৷ এ ব্যাপারে হজরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “বিধবা ও নিঃস্বদের প্রতি দয়া প্রদর্শনে গমণকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে গমণকারী ব্যক্তির মত৷ রাবী হজরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমার ধারণা রাসূলুল্লাহ (সা) এটাও বলেছেন, বিধবা ও নিঃস্বদের সাহায্যে গমণকারী ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মত যিনি রাতজেগে ইবাদতে কখনো অলসতা করেন না এবং দিনে কখনো রোজা ভাঙ্গেন না৷ (বোখারী-মুসলিম)

অসহায় ইয়াতীমকে লালন পালনকারী ব্যক্তি এমন অতুলনীয় মর্যাদা লাভ করবে যে, উক্ত ব্যক্তি জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (সা) এর অতি নিকটবর্তী থাকবে৷ এ ব্যাপারে হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “আমি ও ইয়াতীমের লালনপালনকারী ব্যক্তি চাই সে ব্যক্তি ইয়াতীমের নিজের হোক বা অন্য কেউ হোক জান্নাতে এরূপ হব ৷ এটা বলে রাসূলুল্লাহ (সা) নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন৷ তখন দুই আঙ্গুলের মধ্যে সামান্য ব্যবধান ছিল৷ (বোখারী)

মানুষের মধ্যে ঈমানদারগণ আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি প্রিয় ৷ তাই ঈমানদারগণের পারস্পরিক দয়া প্রদর্শনের ব্যাপারে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে৷ তাদের পরস্পর দয়া ও ভালোবাসার বন্ধন কিরূপ মজবুত হবে এ ব্যাপারে হজরত নো’মান ইবনে বশীর (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, “তুমি ঈমানদারগণকে তাদের পারস্পারিক সহানুভূতি, বন্ধুত্ব ও দয়ার ক্ষেত্রে একটি দেহের মত দেখবে৷ দেহের কোন একটি অঙ্গে যদি ব্যথা পায় তবে শরীরের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ জাগরণ ও জ্বরের মাধ্যমে তার ব্যাথায় অংশীদার হয়৷ (বোখারী-মুসলিম) হজরত আবু মুসা (রা) হতে বর্ণিত আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এক মু’মিন অপর মু’মিনের জন্য প্রাচীর বা ইমারতের মত যার একাংশ অপরাংশকে সুদৃঢ় করে৷ এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সা) এক হাতের আঙ্গুলি অপর হাতের আঙ্গুলির মধ্যে প্রবেশ করালেন৷(বোখারী-মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ (সা) মুসলমানদের পরস্পরকে ভাই ভাই ঘোষণা করে পরস্পরের প্রতি দয়া প্রদর্শনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন ৷ এ ব্যাপারে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, “মুসলমান মুসলমানের দ্বীনী ভাই৷ কোন মুসলমান অন্য মুসলমানের ওপর জুলুম করবে না এবং কোন শত্রুর হাতে ছেড়ে দিয়ে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে না ৷ যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ভাইয়ের অভাব মোচনে সাহায্য করবে আল্লাহ তায়ালা তার অভাব মোচন করবেন ৷ যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ভাইয়ের দুঃখ কষ্ট লাঘব করবে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দুঃখ কষ্ট লাঘব করবেন৷ যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের দোষত্রুটি ঢেকে রাখবে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষত্রুটি ঢেকে রাখবেন৷ (বোখারী-মুসলিম)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত