প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চরম সংকটে ঢাকাই সিনেমা

মহিব আল হাসান: ঢাকাই সিনেমা চরম সংকটের মধ্য দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে। সারাদেরশে প্রেক্ষাগৃহ কমে যাওয়া থেকে শুরু করে বেশকিছু কারণে চলচ্চিত্রের আজ এই দশা। সিনেমার এমন দশার জন্য চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা দায়ি করেন, জীবনধর্মী ও সময়োপযোগী গল্প-গানের সংখ্যা, ছবি আমদানিতে বাধা, শতাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া, পাইরেসিসহ বেশকিছু কারণ। এ কারণে হতাশ চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজকরা।

ঢাকাই সিনেমায় এমন একটা সময় ছিলো যখন সিনেমা ব্যবসার মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করত। কিন্তু বর্তমানে পেক্ষাপট ভিন্ন। এই শিল্পকে বাঁচানোর জন্যই সরকারের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে সহযোগিতা।

কিন্তু কয়েক বছর পিছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, চলচ্চিত্রের ব্যবসার প্রয়োজনে তৈরি হয় কাকরাইলের ভ‚ঁইয়া ম্যানশন, ফরিদপুর ম্যানশন, যমুনা ভবন, ইস্টার্ন কমার্শিয়াল ভবনে খোলা হয় প্রযোজনা সংস্থার বিভিন্ন অফিস। এই জায়গাগুলোতে চলচ্চিত্র প্রযোজকদের শতাধিক অফিস তৈরি হয়। কিন্তু বর্তমানে পেক্ষাপট ভিন্ন ক্রমই দিন দিন গুটিয়ে যাচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাকি আছে হাতেগোনা কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

কয়েকবছর আগেই কাকরাইল পাঁড়ায় ছিলো, মাসুদ কথাচিত্র, চিত্রা ফিল্মস, জ্যাম্বস মুভিজ, ডি রাস ফিল্মস, যমুনা ফিল্মস, সুচন্দা চলচ্চিত্র, ববিতা মুভিজ, পারভেজ ফিল্মস, রোজী ফিল্মস, মধুমিতা মুভিজ, আলমগীর পিকচার্স, কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্রসহ বেশকিছু দেশের নামি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। আর খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে বাকি যে কয়টি আছে।

সিনেমা নির্মাণ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া। ভালো সিনেমা নির্মাণ না হওয়া একে একে হল বন্ধে হয়ে যাওয়া। দেশের ১২০০ হল থেকে এখন সারাদেশে মোট ৩০০টির মতো হল আছে। যার মধ্যে চালু আছে ২০০টির মতো হল। বাকি ১০০ হল কোনও বিশেষ উদযাপন হলে হল মালিকরা সেসময় হল চালু করেন।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা অপূর্ব রানা বলেন, ‘এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিস হাতেগোনা ১০-১২টির বেশি নেই। যা কাকরাইলে ছয় তলাবিশিষ্ট ভ‚ঁইয়া ম্যানশনে অর্ধশতেরও বেশি অফিস ছিল এক সময়। আর সিনেমা হল কমা শুরু ভালোমানের ছবি না থাকায় হল সিনেমা এমন দূর্দশায় চলছে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

রাজধানীর সনি সিনেমা হলের মালিক ও প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পে একদিকে যেমন সংকট তৈরি হয়েছে অন্যদিকে তেমন সংকট থেকে উত্তরণের উপায়ও বের করতে হবে আমাদের। দেশে সিনেমার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে সরকারের সহযোগিতায় তা হলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো কনটেন্ট না থাকলে সিনেমা হল বাঁচবে কিভাবে। এই সংকট তো কাটছে না। নির্মাতারা একে একে কপি করে সিনেমা বানিয়ে দর্শকদের সাথে প্রতারণা করছে। যার ফলে হলে দর্শক যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। সেই সাথে সিনেমার জন্য নায়ক-নায়িকা থেকে পাশ্বচরিত্র করার অভিনয় শিল্পী নেই। যে কারণে চরম সংকটে ঢাকাই ছবি।

এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি হয়েছেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার। তিনি জানিয়েছেন, ই-টিকেটিং, সরকারি ও বেসরকারিভাবে সিনেমা হলে মেশিন বসানো, প্রযোজক ও সিনেমা হলের মধ্যে যে তৃতীয় পক্ষ এজেন্ট থাকে তা বন্ধ করাসহ এফডিসিতে কেন্দ্রীয় সার্ভার বসানোর মাধ্যমে সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রর্দন করলে এই চলচ্চিত্রের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত