প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের কারণে বিলুপ্তির পথে বন্য হাতিরা

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ১৮ মাস আগে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর তাদের বর্ষা মৌসুম এবং ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো একটি ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয়েছে। ঝুঁকিটির সূত্রপাত বন্য হাতি থেকে। কারণ রোহিঙ্গারা হাতিদের একটি ঐতিহাসিক অভিবাসনের পথ আটকে রেখেছেন। এলিফেন্ট রেসপন্স টিম গঠন করে রাতভর শিবির পাহাড়া দিচ্ছেন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হচ্ছে হাতিদের চলাচলের পথ এভাবে বাঁধাগ্রস্থ হলে তাদের প্রজাতিই একসময় বিলুপ্তির মুখে পড়বে। রয়টার্স।

ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন ন্যাচার (আইইউসিএন)-এর বাংলাদেশ প্রতিনীধি রাকিবুল আমিন জানিয়েছেন ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাতির প্রতি নজরদারির জন্য ৯৫টি ওয়াচ টাওয়ার বানানো হয়েছিলো। তারা সতকর্তা সংকেত দেওয়া এবং হাতিদের শিবিরের বাইরে দিয়ে পথ প্রদর্শন করতে একটি দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এই স্বেচ্ছাসেবকদের এই কাজের জন্য অর্থ দেওয়া হয়। আমিন মনে করেন এটি কোনভাবেই স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধান না হলে হাতির বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। হাতিদের চলাচল ও খাবার সংগ্রহের জন্য আলাদা একটি পথ খুঁজে বের করতেই হবে বলে মনে করেন তিনি। থম্পসন রয়টার ফাউন্ডেশনকে আমিন বলেন, ‘তারা একটি ধীরগতির টাইম বোমার উপরে বসে রয়েছে। তাদের জন্য ভালো ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে না। এটা স্বল্প মেয়াদে চলতে পারে। কিন্তু হাতিদের এখন ছোট্ট এক এলাকায় বাস করতে হচ্ছে। তারা এখন আন্ত প্রজনন শুরু করবে। যা হাতিদের জন্য ক্ষতিকর। খাবারও একটি ইস্যু।’
বাংলাদেশে বর্তশানে ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন। তারা কক্সবাজার জেলায় বিপুল পরিমাণ পাড়াড় ও বনভুমি কেটে ফেলেছে। যা জীববৈচিত্র বিশেষত এশিয়ান হাতিদের জন্য ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ^জুড়ে বর্তমানে মআত্র ৫০ হাজার এশিয়ান হাতি রয়েছে। এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বাসভুমি হারানো বলে মন্তব্য করেছে ডাব্লিউডাব্লিউএফ। আইইউএস এর তথ্য মতে বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ২৬৮টি বন্য হাতি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৪৫টি মানে মোট সংখ্যার ১৫ শতাংশ রোহিঙ্গা শিবিরের আশেপাশে বসবাস করে। সবচেয়ে বড় শিবির কুতুপালক হাতির চলাচলের জন্য বিখ্যাত করিডোর। এই পথ দিয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের মধ্যে হাতিরা চলাচল করে। এখানে রোহিঙ্গারা চলে আসায় নিয়মিত মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬ জন রোহিঙ্গা হাতির হাতে নিহত হয়েছে।

আইউসিএন হাতির চলাচলের বিকল্প রুট্যের পরিকল্পনা করলেও এটি কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেন শিক্ষক এবং পরিবেশবিদ ড. আইনুন নিশাত। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রতিনি বলেছেন, হাতির স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর। হাতি বংশানুক্রমে জানে কোথায় তার খাবার পাওয়া যাবে। কোন সময়ে তার পছন্দের খাবার কোন এলাকায় পাওয়া যাবে তা পুরো পালের জানা। নতুন করিডোর করে দিলেও সে তো তা জানবে না। এর চেয়ে বরং হাতিরা যেখানে রয়েছে সেখানেই তার পছন্দের খাবার যেমন কলা চায় করতে হবে। খাদ্যের চাহিদা মিটলে হাতির আক্রমণ হবার সম্ভাবনা নেই। তবে হাতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করে আসছ্ েআগে ভারতের গাড়ো-খাসিয়া পাহাড় থেকে নিয়মিত হাতি নেমে আসতো। তবে ভারত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমা দিয়েও হাতিরা যাতায়াত করে আসছে প্রাচীণকাল থেকেও বলে জানান ড. নিশাত। কিছু হাতির পাল স্থায়ীভাবে নিজস্ব টেরোটোরিতে থাকে। চুনতি রিজার্ভ ফরেস্টে এরকম হাতি রয়েছে। আবার কুতুপালং এলাকার হাতিরা চলাচলে অভ্যস্থ।

ড. নিশাত জানিয়েছেন, হাতিরা সবসময়ে একটি নির্দিষ্ট র্যুটে চলাচল করে। পাহাড়ের স্থানীয় মানুষরা তা জানেন। তারা সেই পথে কখনই বাড়ি বানান না। তাই হাতির সঙ্গে তাদের কোন সংঘাত নেই। কিন্তু পাহাড়ে বাঙালিরা যখন বাড়ি করেন, তারা এই বিষয়টি বোঝেন না। রোহিঙ্গারাও বোঝেননি। তাই হাতির মঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করে, নজরদারী করে, ঢোল-টিন পিটিয়ে অস্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়, বলে মনে করেন এই পরিবেশবীদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন বিকল্প খাদ্যের সংস্থান না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত