প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কেন মেয়র হতে চাই’

প্রভাষ আমিন : বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। কখনো আনুষ্ঠানিক, কখনো অনানুষ্ঠানিক, কখনো সচিবালয়ের লিফটের সামনে, কখনো নির্বাচন কমিশনের সিঁড়ির গোড়ায়। তবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রিপোর্টারদের মুখোমুখি করে দেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ বা ডিপ্লোম্যাটিক রিপোর্টারদের সংগঠনের ‘ডিক্যাব টক’ বেশ জনপ্রিয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের এ ধরনের আয়োজন ছিলো না। ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব শুরু করলো সংলাপ। প্রথম সংলাপেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেহেতু বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, তাই আনিসুল হকের উত্তরসূরি হিসেবে বিজিএমইএর আরেক সভাপতি আতিকুল ইসলামের মেয়র হওয়া প্রায় নিশ্চিত। সংলাপের শিরোনাম ‘কেন মেয়র হতে চাই’ হলেও অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত ‘কেমন মেয়র চাই’ হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নেও ছিলো, নতুন মেয়রের নানান চ্যালেঞ্জ, বিভিন্ন সমস্যার কথা। আতিকুল ইসলাম নানান প্রশ্নে নানান পরিকল্পনার কথা শোনালেন। সব শুনে বোঝা গেলো, আতিকুল ইসলামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি- আনিসুল হক ও সময়। পুরো আলোচনায় বারবার ঘুরেফিরে এসেছে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নাম। এমনিতে ঢাকা ৫৬টি সংস্থার সমন্বয়হীনতায় পিষ্ট। মেয়রের করার তেমন কিছু নেই। কিন্তু আনিসুল হক প্রমাণ করে গেছেন, আন্তরিকতা থাকলে শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক কিছু করা সম্ভব। তিনি আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করে তার আওতার বাইরে গিয়ে অনেক কাজ করেছেন। আসলে আনিসুল হক অল্প সময়ে নগরবাসীর প্রত্যাশার মাত্রা আকাশে তুলে দিয়েছেন। আতিকুল ইসলাম হন আর যেই হন, সেই প্রত্যাশার চূড়া ছোঁয়া সত্যি কঠিন। তবে আতিকুল ইসলাম বারবার বললেন, তিনি আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন। তবে কাজটি সত্যিই কঠিন। কারণ তার হাতে সময় খুব কম। কারণ উপনির্বাচনে মেয়র হলেও তিনি বড় জোর দেড়বছর সময় পাবেন। আতিকুল ইসলাম নিজেই মনে করিয়ে দিলেন, জিতলে দায়িত্ব নিয়ে তিনি পড়বেন জলাবদ্ধতায়। আশ্বাস দিলেন, সহনশীল মাত্রায় রাখার। মশা নিয়ন্ত্রণেও নানা পরিকল্পনার কথা শোনালেন। সচল, বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চাইলেন সবার সহযোগিতা। নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই কাজ না করলে কোনো আশ্বাসই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানালেন।

মাদক সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিলেন খেলাধুলার প্রতি। কথা দিলেন অবৈধ সব দখল উচ্ছেদ করবেন, তবে পাশাপাশি মাথায় থাকবে পুনর্বাসনও। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রকট বৈষম্যের উদাহরণ। এখানে গুলশান-বনানী-বারিধারা-উত্তরার মতো অভিজাত এলাকা যেমন আছে, আছে কড়াইল বস্তি, রাসপুরা, উত্তরখান, দক্ষিণখানের মতো পিছিয়ে পড়া এলাকায়। আতিকুল ইসলাম আশ্বাস দিলেন, জনগণের রায় পেলে সবার প্রতি সমান মনোযোগ থাকবে তার। প্রশ্ন এলো, তার হলফনামা, রাজনীতি না করেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও। কখনো তিনি কৌশলী, কখনো হাসিতে পাশ কাটিয়ে গেলেন। কোনো বলে ছক্কা মারলেন, আবার কোনো বল ডিফেন্স করলেন নিপুন দক্ষকায়। নির্বাচনের আগে অনেক আশ্বাস দেয়া যায়। আশ্বাস দেয়া সহজ। সেটা বাস্তবায়ন কঠিন। আমরা কেমন মেয়র চাই, সেটা বড় কথা নয়। আতিকুল ইসলাম কেমন মেয়র হবেন, সেটা বোঝা যাবে তার কাজে। সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তবে জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রথম সংলাপেই ছক্কা মারলেন। ধন্যবাদ সভাপতি সাইফুল আলম এবং প্রথম সংলাপের আয়োজক ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তকে। অসুস্থতার জন্য সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন অনুপস্থিত থাকলেও ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম সস্পাদক শাহেদ চৌধুরীসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

সর্বাধিক পঠিত