প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩৩ শতাংশ বাসের ফিটনেস নেই

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ২৪ শতাংশ যানবাহনের ফিটনেস নেই। এরমধ্যে ৩৩ শতাংশ বাসেরই ফিটনেস নেই। ৮৯টি বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর করা সমীক্ষায় এ তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২২টি ট্রাকের ১৪ শতাংশ এবং ২২টি সিএনজি অটোরিকশার ১৮ শতাংশ ফিটনেস নেই। ৩৯টি বাসের ৩৩ শতাংশেরই ফিটনেস ছিল না ।
এসব যানবাহনের ৮০ শতাংশের ইঞ্জিন (চেসিস) ভালো অবস্থায় থাকলেও ২০ শতাংশের মান খারাপ। স্পিড গভর্নর সিল রয়েছে ৫৯ ভাগের।

গতকাল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করে বিআরটিএ।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত ১৬ সদস্যের কমিটির সভাপতি ও যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওশন আরা বেগম গত ২৯শে জানুয়ারি এ সমীক্ষা প্রতিবেদনের অনুমোদন দেন। হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনটি ১৫০ পৃষ্ঠার।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৮ লাখ নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়িত বাড়ছে, একইসঙ্গে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে ও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ত্রুটিপূর্ণ (আনফিট) যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। দেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমীক্ষার এ ফল বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না। সমস্যার মাত্রা বোঝার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করা জরুরি।

আদালতে বিআরটিএ’র পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. তানভির আহমেদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বর্তমানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনা। কোনো একটি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না বরং এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় জড়িত থাকে। একটি মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ থাকা মানেই ফিটনেস বোঝায় না। বিআরটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী একটি গাড়িকে প্রতি বছর একবার ফিটনেস পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হয়। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সার্টিফিকেটের মেয়াদ থাকা অবস্থাতেও ওই গাড়ির যেকোনো ত্রুটি হতে পারে। অন্যদিকে বছরের পর বছর অনেক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন না করার বিষয়টিও রয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে ফিটনেস সার্টিফিকেট সম্বলিত গাড়ি যেমন ত্রুটিপূর্ণ হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি এই ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি করেছে।’

প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমীক্ষা জরিপে ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে ৮০ শতাংশ যানবাহনের চেসিস (ইঞ্জিন), ৯৬ শতাংশ যানবাহনের চাকার রাবারিং, ৯৫ শতাংশ যানবাহনের হেডলাইট, শতভাগ যানবাহনের ব্রেক, ৯৬ শতাংশ যানবাহনের স্টিয়ারিং, ৮০ শতাংশ যানবাহনের স্পিডোমিটার, ৮৩ শতাংশ যানবাহনের টেম্পারেচার গজসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহনের দরজা-জানালা ‘ভালো’ অবস্থায় ছিল।

কমিটি গত বছরের ২০শে নভেম্বর গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় ১২টি যানবাহন, ২৭শে নভেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বিভিন্ন শ্রেণির ১৭টি যানবাহন, ৫ই ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের নীমতলায় ২৩টি গাড়ি এবং ১১ই ডিসেম্বর ঢাকার স্টেশন রোড ও বনানীতে ৩১টি যানবাহনসহ মোট ৮৩টি বাহনের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে সাপ্তাহিক কর্ম দিবসে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও সিএজিচালিত অটোরিকশাসহ মোট ৮৩টি যানবাহনের ওপর সমীক্ষা করে কমিটি।

আইনজীবী তানভির আহমেদ বলেন, এর আগে হাইকোর্ট ১৬ সদস্যের একটি কমিটি করে জাতীয়ভাবে সারা দেশের পরিবহনগুলোর ওপর একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদেশ পাওয়ার পর বিআরটিএ এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে।

কমিটির অপর ১৫ জন হলেন-গাজীপুরের হাইওয়ে পুলিশের সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশের এআইজি (টিএম) এ কে এম মোশারফ হোসেন মিয়াজী, বিআরটিএ-এর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মো. মাহবুব-ই-রব্বানী, এলজিইডি-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. মুহসীন রেজা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব আরিফ আহমেদ খান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (রোড সেফটি) মোহাম্মদ শাহীন সরকার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সহ-সভাপতি মো. ছাদিকুর রহমান সরকার, ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উল্লাহ ভুলু, বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ এহসান, বুয়েটের এআরআই-এর সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও বিআরটিএর সচিব মো. আবদুস সাত্তার।

২০১৮ সালের ৩১শে জুলাই বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ফিটনেসহীন পরিবহনের ওপর জরিপ চালিয়ে তিন মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ফিটনেসবিহীন যানচলাচল বন্ধে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত