প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু কঠিন ও নির্দয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে : হাসান আজিজুল হক

স্মৃতি খানম : কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেছেন, শুধু ঢাকা শহরে নয়, পত্রিকা খুললেই দেখছি, প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গায় মানুষ মারা যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এতো আইনের কথা শুনি, কোথাও আইনের প্রয়োগ খুব একটা দেখি না। কোথাও শক্ত শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে না। এই তো কয়েকদিন আগেই দেখলাম, পাঁচ-ছয়জন লোক একসঙ্গে মারা গেলো বাস উল্টে। এভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক করতে গিয়ে, কাজকর্ম দ্রুত করতে গিয়ে সড়কে গাড়ির গতিও বেড়েছে, সঙ্গে দুর্ঘটনাও বেড়েছে। এই যে ব্যবস্থাটা হয়ে গেছে, এর লাগাম কিছুতেই টানা যাচ্ছে না। সূত্র: কালে কণ্ঠ
তিনি আর বলেন, এসব একদিনে সমাধান করা সম্ভব হবে না। এজন্য সরকারকে কঠিন আইন করতে হবে। আর কঠিন আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আর এসব বাস্তবায়নের জন্য যেটা এখনই করতে হবে, তা হচ্ছে যতোটা পারা যায় রাস্তাঘাটকে প্রসারিত করতে হবে। এজন্য কিছু কঠিন ও নির্দয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এজন্য যদি কিছু বাড়িঘর ভাঙতে হয়, ভাঙতে হবে। না ভেঙে তো উপায় নেই। কাজেই এ ছাড়া কী আর করা যাবে। কারণ উপায় তো নেই। যতোদূর পারা যায়, রাস্তাগুলোকে উন্নত এবং সুনিয়ন্ত্রিত করা।
সকালে বাবার হাত ধরে বা বাবার পাশে পাশে হেঁটে স্কুলে যাচ্ছিলো মেয়েটি। সঙ্গে তার মাও ছিলেন। রাস্তা পার হবেন বলে তারা চেষ্টা করেন এবং রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয় শিশুটিকে। বাবার হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিটকে রাস্তায় পড়ে সে। এর পরের বর্ণনাগুলো পত্রিকায় পড়ার পর মাথার ভেতরে যে ক্রিয়া হচ্ছিলো, সেটা এখন আবার জেগে উঠলো। চালক মেয়েটিকে প্রায় চাপা দিয়ে পালিয়ে গেলো। মাথাটা ঠিক স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। একজন বাবার জন্য এমন অমানবিক দৃশ্য আর কী হতে পারে? কিছুক্ষণ পর পরই ঘটনা ও ছবির কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো। এ কোন দেশে আমরা বাস করছি, যেখানে বাবার হাতে থাকা সন্তানও নিরাপদ নয়। কল্পনা করা যায়? চালককে আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হয়, এমন ঘটনা তোমার নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটলে তুমি কী করতে? তোমার কেমন বোধ হতো?

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত