প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্লাস্টিকের চাল হয় না, তবে মিনিকেট চাল বানানোর সময় বিশেষ কেমিকেল মেশানোতে এমনটি হতে পারে

মতিনুজ্জামান মিটু: প্লাস্টিকের চাল হয় না। কোনো অটো রাইস মিলে মোটা চালকে সরু বা মিনিকেট বানানোর সময় বিশেষ কোনো কেমিকেল মেশানোতে এমনটি হতে পারে বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রি’র এক ধান বিজ্ঞানী। তিনি বললেন, বাংলাদেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। প্রতি কেজি চালের দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকার বেশি নয়। এই পরিস্থিতিতে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে প্লাস্টিক কিনে চাল বানাতে যাবে এমন কোনো আহম্মক নেই।

তিনি আরো বলেন, এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। পৃথিবীতে কেউ কখনো প্লাস্টিক দিয়ে চাল বানিয়েছে বলে শুনিনি। তবে মোটা চালকে সরু বা মিনিকেট বানানোর সময় বিশেষ কোনো কেমিকেল মেশানোর সময় এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। অভিযুক্ত চাল রান্না করলে ভাত হচ্ছে ঠিকই তবে মুড়ি ভাজতে গেলে কালো বা অন্য ধরণের রং ধারণ করছে। পোড়া পোড়া হচ্ছে। সাদা মুড়ি হচ্ছে না। বিষয়টি খাতিয়ে দেখা দরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ ড. নুরুল ইসলাম বললেন, জীবনে এধরণের চালের কথা কোনা দিন শুনিনি। প্লাস্টিকের চালের যে খবর রটেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। গাইবান্ধায় একজন কৃষক বাজার থেকে কিনে ভাত রান্নার সময় প্লাস্টিকের বলে সন্দেহ করে। খবর টি জানার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধার উপ পরিচালক ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ গাইবান্ধার কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেন। তাদের পরীক্ষায় দেখা যায় সন্দেহ করা চাল প্রকৃত অর্থেই ধানের চাল।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত চাল উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ২০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষক চাল বেচতে না পেরে লাভ করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে প্লাস্টিকের চালে খবর গল্প বা রটনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্লাস্টিকের চালের কথা না উঠলেও আমাদের দেশে আগে কচ্ছপ ও মুরগীর নকল ডিমের কথা শোনা যায়। কিন্তু সে সব খবরই ছিলো মনগড়া ও ভিত্তিহীন। এ ধরণের বানোয়াট খবর কেন রটেছে তা খতিয়ে দেখার জন্য গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তদন্ত করছে।

গাইবান্ধায় পুলিশ প্লাস্টিকের চাল আটক সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. শাহজাহান কবীর বললেন, প্লাস্টিকের চাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খবর পেয়ে আমরা গাইবান্ধা থেকে স্যাম্পুল (নমুনা) সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছি। নমুনা আসার পর পরীক্ষা নিরিক্ষা করে রিপোর্ট দেব।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শওকত ওসমান বললেন, পুলিশের আটক করা চাল প্লাস্টিকের বলে প্রমাণ হয়নি। এখানকার জেলা প্রশাসক তা প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ওই চালের নমুনা সংগ্রহ করে এনে ভাত রান্না করে এবং ভেজে দেখেছি। তাতে ওটা প্লাস্টিকের বলে প্রমাণিত হয়নি। কিভাবে খবর পেয়ে পুলিশ প্লাস্টিকের চাল আটক করলো তা আমাদের জানা নেই। ওই বিষয়টি পুলিশ এবং যেসব সাংবাদিক প্লাস্টিকের চাল সংক্রান্ত সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছেন তারাই বলতে পারবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত