প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্তানের বাবার পরিচয় উদ্ধারে ১৭ বছর ধরে ঘুরছেন এক মা

ইসমাঈল ইমু : সন্তানের বাবার পরিচয় উদ্ধারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক হতভাগী মা। ডিএনএ টেস্টে বাবার আলামত নিশ্চিত হওয়ার পরও পিতৃপরিচয়হীন হয়ে ঘুরছে একমাত্র সন্তান আলমগীর। বাবার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়েছেন। কোন লাভ না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শুকিরন খাতুন নামে এক মা।

শুকরিন অভিযোগ করেন, বর্তমানে কুড়িগ্রাম রাজিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শফিউল আলম সেসময় রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০০০ সালে তখন শুকরিন শফিউল আলমের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। এসময় শফিউল আলম তাকে বাড়িতে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে শফিউল আলম তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে গর্ভপাত ঘটান। এভাবে পুনরায় তাকে ধর্ষন করলে তিনি আবারো গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি শুকরিন তার বাবাকে জানালে তারা বিষয়টি শফিউল আলমের বাবা-মাকে জানান। এতে শফিউল আলমের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে শুকরিনকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেন। এছাড়া তাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান। লেখা-পড়া না জানা গ্রামের সাধারন মানুষ হওয়ায় ভয়ে কাউকে কিছু বলেননি। এরমধ্যে তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। যার নাম রাখা হয় আলমগীর। পরে ২০০৮ সালে তিনি কুড়িগ্রাম নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু উপযুক্ত প্রমান ও স্বাক্ষীর অভাবে আদালত ধর্ষণ অভিযোগ থেকে শফিউল আলমকে অব্যহতি দেন। এখন সন্তানকে বিপাকে পড়েছেন শুকরিন। বর্তমানে আলমগীর এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুলের সহপাঠীরা তাকে নানা ধরনের টিপ্পনি কাটে। ছেলে এসে মায়ের কাছে জানতে চায় তার বাবা কে?

শুকরিন বলেন, আলমগীরের স্কুলসহ সব কাগজপত্রে তার বাবার নাম হিসাবে শফিউল আলমের নামই লেখা হয়েছে। আথচ শফিউল আলম তার সন্তানকে স্বিকার করছেন না। আলমগীরের পিতৃপরিচয় জানতে ঢাকায় এসে ডিএনএ টেস্ট করা হয়। ডিএএন টেস্ট রিপোর্টে বলা হয়, শফিউল আলমই আলমগীরের প্রকৃত পিতা। তিনি (শফিউল আলম) এই পিতৃপরিচয় অস্বিকার করতে পারেন না। এ ব্যাপারে শফিউল আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। তাকে হেয় করতে ওই নারী কুৎসা রটাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত