প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান, একটি স্বীকৃতি’ অনেক বড় প্রাপ্তি : সুবর্ণা মুস্তাফা

মহিব আল হাসান: ‘একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান, একটি স্বীকৃতি’। একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। প্রাপ্তিটা আমার কাছে এসে ধরা দিয়েছে। ক্যারিয়ারের সফল কাজের জন্যই আমি এই স্বীকৃতি পাচ্ছি। আমি ধন্যবাদ জানাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আমাকে একুশে পদক দেবার জন্য। সেই সাথে এবার যারা একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন তাদেরকে জানাই অভিনন্দন। একুশে পদক, একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান আর গর্বের এমন পাওয়ায় উচ্ছ্বাসে নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করলেন বরেণ্য অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা উন্মুক্ত করা হয়। সেখানে অভিনয় শিল্পকলায় পদক পেয়েছেন সুবর্ণা মুস্তাফা।

এবারের একুশে পদকে ভ‚ষিত হওয়ায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা আমাদের সময় ডট কমকে বলেন, ‘গতকাল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে একুশে পদকে যারা ভূষিত হবেন তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। সেখানে আমারও নাম আছে। সেটা দেখার পর থেকে আমি সত্যি আবেগে আপ্লুত হয়ে যায়। অনেকে আমাকে শুভকামনা ও ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। তাদের ভালোবাসা আর আবেগে আমি সত্যি চির ঋণী।’

পদক প্রাপ্তিতে ভূষিত হয়ে বাবা মার কথা বেশ মনে পড়ছে তার। এ বিষয়ে তিনি বলেন যে দুজন মানুষের জন্য আমার সুবর্ণা মুস্তফা হওয়া তারাই আজ আমার পাশে নেই। তারা থাকলে আজ অনেক খুশি হতেন। তবে তাদের দোয়া আমার কাছে সবসময় আছে। তাই সবসময় তাদের আর্শীবাদে আমার স্বপ্নগুলো পূরণ হচ্ছে।

গুণী এই অভিনেত্রী সহকর্মী, লেখক, নির্মাতা, কলাকুশলীদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, অভিনয় একা কারোর পক্ষে করা সম্ভব নয়। সবার উপস্থিতি আর সহযোগিতায় আমি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছি। সকলকে আমার আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। সেই সাথে ধন্যবাদ আমার দর্শক শ্রোতাদের। এত বছর যারা আমাকে ভালোবেসেছেন, গ্রহণ করেছেন,আমার কাজ এবং আমাকে। তাদের বলতে চাই- “গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায়।” শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা অফুরান সকলের জন্য।

প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি বিভাগ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি নাট্যজগতে তার জায়গা গড়ে তোলেন। আশির দশকে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রীর তালিকায় চলে আসেন। বিশেষ করে আফজাল হোসেন ও হুমায়ুন ফরিদীর সাথে জুটি বেঁধে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পান।

১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। জীবন ধারার চলচ্চিত্রসহ তিনি মূলধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, তার চেহারায় বাঙালি রমনীর শাশ্বত সৌন্দর্যেস্পষ্ট এবং স্মিত যৌন আবেদন ও রহস্যময়ে পর্দায় দর্শকদের ধরে রাখতে পর্দায়।

১৯৮৩ সালে নতুন বউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান এ গুণী অভিনেত্রী। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।

সর্বাধিক পঠিত