প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিসির অনুপস্থিতি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা

মারুফুল আলম : রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বেশির ভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে। ডিবিসি নিউজ।

রাষ্ট্রপতি যে তিনটি শর্তে অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, তার প্রধান শর্ত, ক্যাম্পাকে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু তিনি তা মানছেন না।

গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন মাত্র ৮ দিন। তাও কয়েক ঘন্টার জন্য। তিনি সকালের ফ্লাইটে এসে বিকালে ঢাকা চলে যান। আর এর বেশির ভাগ সময় তিনি কাটান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে।

সহকারি অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো মনিটরিং না করেন, তাহলে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই স্থবিরতা আসবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রোকনুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনুপস্থিত আছেন। এই কারণে নিয়োগের শর্তটি ভঙ্গ হয়েছে। এক্ষেত্রে যথেষ্ট জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলছেন, রংপুরের মানুষ সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীট নিয়ে যে স্বপ্ন লালন করে, উপাচার্যের গাফলতিতে সব ভন্ডুল হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ড. মফিজুল ইসলাম বলেন, দুই ঘন্টা বা তিন ঘন্টা তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। আমাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক এই বিশ্ববিদ্যালয়। পড়াশোনার মান, গবেষণার কাজ ও অন্যান্য কার্যক্রম তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশিদ বাবু বলেন, যিনি সময় দিতে পারবেন, তাকেই দরকার আমাদের। এমন ভিসি দরকার নেই, যিনি সকালে এসে বিকেলে চলে যাবেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজেই ঢাকা থাকেন উপাচার্য। এতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে প্রভাব পড়ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মিত হলেও উপাচার্য একাই ২৬টি কোর্সের দায়িত্বে এবং প্রতিটি কোর্সে সেমিস্টার প্রতি ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত