প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ

জিয়াউদ্দিন রাজু : উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীনরা। এক্ষেত্রে প্রার্থীর বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগ পেলে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। প্রার্থী সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত কিনা এমন খোঁজ খবর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোনো প্রার্থীর পক্ষে কোনো তদবীর থাকলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয় পর্যায় থেকে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা সুপারিশ করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। দুর্নীতির সঙ্গে কিংবা ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা থাকলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পড়বেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে বাতিল হতে পারে এমন ঋণখেলাপি প্রার্থীরা দলের টিকেট পাবেন না। একই সঙ্গে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ কোনো মামলা থাকলে তাদের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই নীতিতে অটল ছিলো আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রে জানায়, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা অর্থ আত্মসাতসহ যে কোনো মামলা রয়েছে, এমন কেউ যাতে দলী মনোনয়ন না পায় সেটি বিশেষভাবে খেলায় রাখছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এ ক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ডের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন-প্রত্যাশী, এমন কারোর বিরুদ্ধে সমাজে দুর্নীতি কিংবা কোনো মামলা রয়েছে কি না তা খোঁজ খবর নেওয়া।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা নির্বাচনে দলের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা প্রার্থী হোক আমরা এটাই চাই। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়ন করতে হলে কেন্দ্রের সঙ্গে স্থানীয় সরকারকেও সমানভাবে শক্তিশালী হতে হবে। কাজেই উপজেলা নির্বাচনে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে আমরা মনোনয়ন দেবো। প্রতিটি বিভাগে আওয়ামী লীগে একজন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছে। সবকিছু চুল-চেড়া বিশ্লেষণ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বোর্ড মনোনয়ন দেবে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের একটি জরিপ রয়েছে। যা দেখে উপজেলা পর্য়ায়ে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যাতে মনোনয়ন পান, সে ব্যাপারে সব ধরণের ম্যাকানিজম করা হচ্ছে। অর্থাৎ যাচাই-বাছাই করেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবার উপজেলা পরিষদে ত্যাগী নেতাদের অনেকেই মনোনয়ন-প্রত্যাশী। এ সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, চাওয়া তো অপরাধ নয়, দল করলে ত্যাগ করতে হয়। রাজপথে পুলিশের মার খেয়েছে। নির্যাতন সহ্য করেছে অনেকেই। আওয়ামী লীগ কতদিন ক্ষমতায় তার আগে তো অত্যাচার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে কর্মী থেকে নেতা হয়েছেন। কাজেই আশা আকাঙ্খা সবারই থাকতে পারে। কিন্তু মনোনয়ন তো একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন ভাইস চেয়ারম্যানকেই দেবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত