প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সমস্যা কী?

কামরুল হাসান মামুন : বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সমস্যা কী? আমার কাছে একটাই উত্তর। শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা। এটাকে ঢেলে না সাজালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খুব দ্রুত খারাপ থেকে আরো খারাপ, আরো খারাপ এবং আরো খারাপের দিকে যাবে এবং যাচ্ছে।

এই নিয়োগ কমিটির গঠনেই সমস্যা। পৃথিবীতে এ রকম নিয়োগ কমিটি আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। নিয়োগ কমিটিতে থাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একজন, তারপর থাকে সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির ডিন, থাকেন বিভাগের চেয়ারম্যান, থাকেন বিষয়ের একজন এক্সপার্ট ইত্যাদি। এখানে স্পষ্টতই এক ধরনের হায়ারার্কি বিদ্যমান।

অর্থাৎ যিনি কমিটির মেম্বার বিশেষ করে সাবজেক্টের এক্সপার্ট নির্বাচন করেন তিনি কমিটির সর্বের সর্বা হিসেবে থাকেন। সাবজেক্টের এক্সপার্ট কে হবেন? এটা গত ৩০ বছর বা তার অধিক আগে থেকেই দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে আসছেন। ডিন তো নির্বাচিত। আমাদের এখানে নির্বাচন মানে ক্ষমতাধররাই সর্বদাই নির্বাচিত হন (ব্যতিক্রম ছাড়া)। ফলে এটা একটা সিন্ডিকেট। এরা নিয়োগকে ভাগ বাটোয়ারার অংশ হিসেবে দেখে। একজন শিক্ষক নিয়োগ যে বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ এবং জাতির জন্য কতো গুরুত্বপূর্ণ তা তারা তলিয়ে দেখেন না।

প্রথমত : আমরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কাউকে নিয়োগ সাধারণত দিই না। আবার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হওয়ার পরও দেখি সে কোনো ক্ষমতাধরের সাথে মাস্টার্সের থিসিস করেছে। সেই শিক্ষকের সাথে যদি একাধিক ছাত্র থিসিস করে থাকে তখন দেখা হয় কোন ছাত্রটি সবচেয়ে বেশি চামচামি করতে শিখেছে। কেন এমন নিয়োগ দেয়া হয়? কারণ আমরা চাই যেই শিক্ষকটি নিয়োগ পায় তার যেন একজন গুরু থাকে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকটি বিভাগে জয়েন করেই বুঝে ফেলে সহকর্মী সবাই তার শিক্ষক এবং কেউ কেউ শিক্ষকের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। সে তার নিয়োগকর্তা, ভবিষ্যৎ প্রমোশনদাতা। এখানে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের পক্ষে বিভিন্ন ফোরামে তার নিজস্ব মতামত দেয়া প্রায় অসম্ভব। আমরা যারা সিনিয়র আমাদের মনমানসিকতাটাই এমন যে কেউ বিরোধিতা করলেই তাকে ‘বেয়াদব’ ট্যাগ মেরে দেই। এই বেয়াদব যেন না আসতে পারে সেজন্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থী যতো ভালোই হোক তাকে নেয়া হয় না। এমনকি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালোদের নিতেও দিন দিন অনীহার মাত্রা বেড়েই চলেছে। কারণ দেখা গেছে, ভালো মানের ছাত্ররা শিক্ষক হলে ভালো মানের বেয়াদব হয়। এরা নিয়োগ পাওয়ার পর দল করতে চায় না, এরা মাফিয়া ডনের কথা শুনতে চায় না ইত্যাদি।

শুধু এই কারণেই বিশ্বের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজ গ্রাজুয়েটদের শিক্ষক হিসেবে পেতে অনাগ্রহ। উদ্দেশ্য যেন নিজের ছাত্রদের দ্বারা নিজ বিভাগ তোষামোদির একটি কারখানায় পরিণত না হয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত