প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে সব সংগঠনে এরশাদের পিতারা আছেন!

অসীম সাহা : ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারী এরশাদকে হটিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হয়েছিলো। সকলে আনন্দে-উল্লাসে আপ্লুত হয়ে যার যার মতো বগল বাজাতে শুরু করেছিলেন। তারা একান্তে কখনো ভেবে দেখেননি, স্বৈরাচার শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চলে না, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও আরো ভয়াবহভাবে চলে! রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচারকে তবু নিত্যদিন চোখে দেখা যায়; কিন্তু অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার বাইরে আসে না বলে আমরা রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচার নিয়ে বেশি হৈচৈ করি। যদি সংসারে একজন স্বামী স্বৈরাচারী ও পরিবারে একজন পিতা স্বৈরাচারী হয়, তা হলে রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শাসক থাকলে আমরা বিস্মিত হই কেন? যাকে আমরা স্বৈরাচারী হিশেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে অন্দোলন গড়ে তুলি, আমরা তো লক্ষ করি না, তারচেয়েও বেশি স্বৈরাচারী ঘরের অভ্যন্তরেই ঘাপটি মেরে আছে। এরশাদ স্বৈরাচারী হয়েছিলেন ‘ফাউ’ ক্ষমতা হাতে পেয়ে। কিন্তু ঘরের ভেতর বা প্রতিষ্ঠানের ভেতর যারা স্বৈরাচারী হয়, তারা হয় কী পেয়ে? প্রকৃতপক্ষে স্বৈরাচারী সকলেই। কেউ খাটানোর সুযোগ পায়, কেউ পায় না।

তবে পেলে যে কে কী করতে পারে, তার ছোট ছোট নমুনা আমরা বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। আসলে যে যায় লংকায়, সেই রাবণ হয়! অতএব এরশাদকে দোষ দেয় কারা মনে মনে এরশাদের চেয়েও বড় স্বৈরাচারী যারা, তারা। চুনোপুটি হয়েও যারা ঘরোয়া সিংহাসনও ছাড়তে চায় না, তারা এরশাদের মতো রাষ্ট্রের কর্ণধার হলে নিশ্চিত স্বৈরাচার নয়, দেশ বিক্রি করে দিতো। জাতীয় পর্যায়ে, এমন কিছু সংগঠন আছে, যারা অনেকদিন ধরে কাজ করছেন ও জাতিকে উদ্ধার করছেন। তাদের মধ্যে দুদু ও তামাক খাবার প্রবণতা এতো বেশি যে, গণতন্ত্রের কথা তাদের মুখে কৌতুকের মতো শোনায়! তাদের ভাব দেখে মনে হয়, তারা ছাড়া এদেশে তেমন যোগ্য কেউ নেই, যারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।

তাই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ কিংবা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পদ তারা ছাড়া আর কেউ পূরণ করার যোগ্যতা রাখেন না! এরা ভোটের কথা বলেন, কিন্তু ভোটকে কলা দেখিয়ে পরস্পর গলাগলি করে যারা নিজেদের সিংহাসনে সুপার-গ্লু লাগিয়ে রাখেন, যাতে সেই পদ থেকে উঠতে গেলে তাদের পশ্চদ্দেশে সিংহাসন বা পদ-পদবি আটকে যায়, তাদের কাছে গণতন্ত্র কতোটা সুরক্ষিত, তা সহজেই অনুমান করা যায়! কবি বা লেখক, সংস্কৃতিজীবী বা বুদ্ধিজীবী যখন চতুর হয়, তখন সকলকে ছাড়িয়ে বুদ্ধির প্যাচে তারা সবাইকে ছাড়িয়ে যায়! আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে যারা ১০/১৫ বছর যাবৎ এক একটি প্রতিষ্ঠানের সিংহাসন দখল করে আছেন, তাদের কি সামান্যতম লজ্জবোধ ও বিবেকও নেই? যদি লজ্জাবোধ থাকতো, তা হলে তো তারা অন্যদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে ন্যূনতম শোভনতার পরিচয় দিতে পারতেন! ন্যাংটার নাকি বাটপাড়ের ভয় থাকে না! এরা দেখছি বাটপাড়েরও অধম। এরা এমনি অধম যে, এদের কা-কারখানা দেখলে মনে হয়, “ডিম পাড়ে হাঁসে/খায় বাঘডাসে।” সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান যারা জন্ম দেন, তাদের ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে নিজেরা সংগঠনের বাহাদুর বনে যান। এদের ঘৃণা করতেও ঘৃণা হয়।

কিন্তু যারা নির্লজ্জ ও বেহায়া, তাদের পশ্চাদ্দেশে স্যাঁকা দিলেও এরা সামান্যতম তাপও অনুভব করেন না। আমাদের দেশের প্রায় সব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানই এই পদ্ধতিতে চলে। যাদের জ্যাক আছে, তারা সরকারে, আর যাদের কনুই আছে তারা সংগঠনে যোগ্য লোকদের জায়গা না দিতে সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে কুণ্ঠিত হন না। প্রয়োজনে গু-াবাজি ও চাণক্যের ভূমিকা নিতেও এদের বাধে না। কিন্তু নতুন প্রজন্মের তরুণরা যদি এ-ব্যাপারে এগিয়ে এসে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে না পারে, তা হলে এরা গাছেরটাও খাবে, তলারটাও কুড়োবে।

এরা যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু জ্যাক আর মাস্তানির জোরে এতোদিন ধরে সেই কাজ করে যাচ্ছেন। এবার তাদের প্রতিহত করার পালা। আশা করি, এই কাজ করার জন্য তরুণরা আর অপেক্ষা করবে না। গণতন্ত্র হত্যাকারী এরশাদের পিতাদের সব জায়গা থেকে হটাতেই হবে। এটাই হোক তারুণ্যের অঙ্গীকার।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত