প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সড়কে মর্মান্তিক মৃত্যু: দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা কি অসম্ভব?

যুগান্তর : বাবা-মার চোখের সামনে মাইক্রোবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু-সন্তানের করুণ মৃত্যু, এমন দৃশ্যের কথা ভাবলেও আঁতকে উঠতে হয়। অথচ প্রতিনিয়ত এমন ঘটনাই ঘটছে আমাদের সড়কে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ফাইজা তাহমিনা সূচিকে নিয়ে তার বাবা রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় মেয়েটি একা যেতে পারবে জানিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে বেপরোয়া মাইক্রোবাসের তলে চাপা পড়ে।

এদিন শুধু সূচির রক্তে রঞ্জিত হয়নি রাজপথ; ভোর ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় রাজধানীর সড়কে অন্তত তিনটি স্থান এমনিভাবে রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। সূচি ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। একইদিন রাজধানীর বাইরে দেশের আট স্থানে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন নয়জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। উদ্বেগের বিষয় হল, সড়কে মৃত্যু কমছে না কিছুতেই, বরং দিন দিন বড় হচ্ছে ‘মৃত্যুর মিছিল’।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের এ ব্যাপকতা মেনে নেয়া যায় না। প্রতিদিন আমাদের যদি এমন বেদনাদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এত আন্দোলন, এত পদক্ষেপ কী কাজে লাগল? অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের খামখেয়ালিপনা এবং নিয়ম না মেনে গাড়ি চালনার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর সড়কপথে অন্তত পাঁচ হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে চার হাজার মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণকারীর সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না। অন্যদিকে আইন মানার ক্ষেত্রে পথচারীরাও আন্তরিক নয়। ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা ছাড়াও জেব্রাক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে চলন্ত বাসের সামনে হাত উঁচিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন এবং এর বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে মানুষকে সচেতনও করতে হবে। মানুষ সচেতন হলে নিঃসন্দেহে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দুর্ঘটনার হার না কমাই তার প্রমাণ। অথচ সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

এজন্য দরকার সরকারের সদিচ্ছা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনা রোধের ব্যাপারে তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের অভাব রয়েছে। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতিমধ্যেই এ কাজে তারা সফল হয়েছে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, পথচারী-যাত্রী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত