প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিভক্তি নিয়েই চলছে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন

আমিন মুনশি : তাবলিগ জামাতের বাৎসরিক সম্মেলন বা ইজতেমা নিয়ে সংশয় কাটলেও দু’পক্ষের বিভক্তির রেখা কার্যত রয়েই গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণে শেষ পর্যন্ত যদিও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা তবে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা ও অন্যান্য আমলের নেতৃত্বের বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা কাটেনি।

গত মঙ্গলবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো: আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিশ্ব ইজতেমার সময়সীমা শেষ পর্যন্ত তিনদিনের বদলে চারদিন করা হয়েছে। তাবলিগের বিবদমান দু’গ্রুপের সাথে বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি- এ চারদিন বিশ্ব ইজতেমা হবে। প্রথম দুদিন ইজতেমা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে মাওলানা জুবায়ের আহমদ। তারা তাদের মতো করে আয়োজন করে সবকিছু শেষ করে মোনাজাত করে চলে যাবে। এরপরের দুদিনের দায়িত্বে থাকবেন মাওলানা সাদের অনুসারী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। তারাও তাদের মতো করে ওই দুদিনের সবকিছু করবেন। তারা দুজন মিলেই দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন যাতে কোনো মারামারি বা ঝামেলা তৈরি না হয়।’

এদিকে বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) কাকরাইল মসজিদের (মাওলানা জুবায়ের আহমদ গ্রুপ) পক্ষ থেকে জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের তাবলিগের শুরা ও জিম্মাদারদেও প্রতি একটি চিঠি প্রেরণ করে বলা হয়েছে, মুরুব্বিদের পরামর্শক্রমেই আলাদা আলাদা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওলামা হযরত ও তাবলিগের সাথীদের মূল ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারি। ইজতেমা কামিয়াবির জন্য এখন থেকেই ছোট ছোট জামাআত তৈরি করে প্রস্তুতি নিতে আহবান জানানো হয় চিঠিতে।

তাবলিগ জামাতের এ অংশের নেতা মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমি জানান, ‘প্রশাসন এখন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেটা আসলে এক ধরণের গোঁজামিল। এতে ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায়। তবে তারা যদি মাওলানা সাদকে ইজতেমায় আনার অপচেষ্টা করে তাহলে আমরা এই ইজতেমা বর্জন করবো।’

এ বিষয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘মাওলানা সাদ নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এবারের ইজতেমায় আসবেন না। তবে প্রশাসনকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। প্রথম পক্ষের শেষের দিন ও দ্বিতীয় পক্ষের শুরুর দিন কেউ যাতে কোনপ্রকার হাঙ্গামা করতে না পারে।’

এবারের ইজতেমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরণের হতাশা তৈরি হয়েছে। ইজতেমার সূত্রগুলো বলছে- অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের ইজতেমায় মানুষের স্বতস্ফূর্ততা কম দেখা যাচ্ছে। বিদেশি জামাতগুলো আসার ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে ভিসা সংক্রান্ত নানা জটিলতা। যদিও বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশিদের আগমনের বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘অতিথিদের যেন ভিসা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশিদের জন্য ইজতেমা মাঠে বাড়তি নিরাপত্তারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তাবলিগ জামাতের বিভক্তির মূলে যিনি সেই মাওলানা সাদ কান্দালভী এবারের ইজতেমায় না আসলেও ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে তার প্রতিনিধিদের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেওবন্দ মাদরাসা থেকে আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরিসহ একটি প্রতিনিধি দল আসার কথা রয়েছে। পাকিস্তান থেকে মাওলানা তারিক জামিল, মুফতি তাকি উসমানি, মুফতি রফি উসমানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বরেণ্য মুবাল্লিগ ও ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত