প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমি আপ্লুত নই, তবে আনন্দিত : কবি অসীম সাহা

আশিক রহমান ও সারোয়ার জাহান : কবি ও দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সংযুক্ত সম্পাদক অসীম সাহা ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদকে মনোনীত হয়েছেন। পুরস্কারপ্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি আপ্লুত নই, উচ্ছ্বসিতও নই, তবে আনন্দিত। সারাজীবন কাজ করেছি দেশের জন্য, মানুষের জন্য। প্রাপ্তি বা বিনিময়ের আশা কখনো করিনি। কিন্তু রাষ্ট্র আজ আমাকে যে সম্মান দিলো তাতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। উৎসাহিত করবে ভালো ভালো কাজ করতে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ২০১৯ সালের একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পদকপ্রাপ্তদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে একুশে পদক প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার হচ্ছে একুশে পদক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০১৭ সালে সংশোধিত ‘জাতীয় পুরস্কার/পদক সংক্রান্ত নির্দেশাবলী’তে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের অর্থ বৃদ্ধি করে।

কবি অসীম সাহার জন্ম ১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। পিতৃপুরুষের ভিটে মানিকগঞ্জ। ১৯৬৫-তে মাধ্যমিক পাশ করার পর মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭-তে উচ্চমাধ্যমিক, ১৯৬৯-এ স্নাতক পাশ করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

১৯৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা হবার কথা থাকলেও অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ২৬ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার ফলে সে-পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

অসীম সাহার লেখালেখি জীবনের শুরু ১৯৬৪ সালে। সাহিত্যের সকল বিষয়ে তুখোড় এই লেখক ঋদ্ধতায় বিশ্বাসী বলে অতিপ্রজ হওয়ার দিকে তাঁর মনোযোগ কম। তাই এত বছরেও তাঁর বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৩০টি।

এ-পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর উল্লখযোগ্য বইগুলোর কয়েকটি হচ্ছে : পূর্ব-পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায় (১৯৮২), কালো পালকের নিচে (১৯৮৬), পুনরুদ্ধার (১৯৯২), উদ্বাস্তু (১৯৯৪), মধ্যরাতের প্রতিধ্বনি (২০০১), অন্ধকারে মৃত্যুর উৎসব (২০০৬), মুহূর্তের কবিতা (২০০৬), Refujee and the festval of death in darkness (2010, সৌর-রামায়ণ (২০১১), অক্টাভিও পাস ও ডেরেক ওয়ালকটের কবিতা (অনুবাদ) (২০১১), কবর খুঁড়ছে ইমাম (২০১১), প্রেমপদাবলি (২০১১), পুরনো দিনের ঘাসফুল (২০১২) (কবিতা)।

ষাটের দশকের কবিদের অন্যতম প্রধান এ-পর্যন্ত আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৩), ময়মনসিংহ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফোরাম সম্মাননা (২০০৯), সাতক্ষীরা জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিসম্মাননা (২০১০), কবিতাবাংলা কবিসম্মাননা (২০১০), বিন্দুবিসর্গ কবিসম্মাননা (২০১১), শৃন্বন্তু কবিসম্মাননা (কোলকাতা) (২০১১), দিকচিহ্ন কবিসম্মাননা (২০১১), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর কবিসম্মাননা (২০১১) এবং কবিতায় সামগ্রিক অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরস্কার (২০১২) এবং কবিতালাপ পুরস্কার (২০১২) লাভ করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত