প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে স্কুলছাত্র ইমন হত্যায় দুই জামায়াত নেতাসহ ৪ আসামীর ফাঁসি

আশরাফ চৌধুরী রাজু, সিলেট: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু মোস্তাফিজুর রহমান ইমন হত্যা মামলায় দুই জামায়াত নেতাসহ ৪ আসামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। হত্যা, অপহরণ ও লাশ গুমের অভিযোগে পৃথক ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে বুধবার দুপুরে আলোচিত ওই মামলার রায় দেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পিতা ও মামলার বাদি জহুর আলীসহ আইনজীবিরা। রায় ঘোষনাকালে চার আসামীর মধ্যে তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, ছাতকের ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণজুলিয়া গ্রামের মৃত মখলিছ মিয়ার ছেলে, বাতির কান্দি মসজিদের ইমাম শুয়াইবুর রহমান সুজন, বাতির কান্দি গ্রামের আব্দুল মুক্তাদিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক ও নোয়ারাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বাতিরকান্দি গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে জাহেদুর রহমান ও একই গ্রামের আব্দুল কবিরের ছেলে সালেহ আহমদ। এরমধ্যে সালেহ আহমদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

রায়ে হত্যাকান্ড, অপহরণ ও মুক্তিপন আদায়ের অভিযোগে আসামিদের মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের অভিযোগে ২০১/৩৪ ধারায় প্রত্যেক আসামীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড দেন আদালত।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শমিউল আলম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানে সচেষ্ট হয়েছি। আদালত তাদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর লোমহর্ষক ওই হত্যাকান্ডের বর্ণনা তুলে ধরে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মামলার বাদি ও নিহতের পিতা জহুর আলী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আমার ছেলের মতো প্রত্যেকটি শিশু হত্যার ন্যায় বিচার হলে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।

ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। ওইদিন বিকালে সে বাড়ির পাশে খেলা করছিল। মুক্তিপনের ২ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে। ৫ এপ্রিল রাতে ইমনের বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের আঙ্গিনায় তাকে বিষ পান করিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

২৮ মার্চ ইমনের বাবা জহুর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ছাতক থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। প্রথমে ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে এবং জড়িত সন্দেহে মোট ৬ জনেক গ্রেফতার পুলিশ।

মামলা দায়েরের প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরা হচ্ছে সুজন, রফিক, জাহেদ, সালেহ, বাচ্চু, কাহার ও নুরুল আমিন। চার্জ গঠনের সময় অভিযুক্তদের মধ্যে বাচ্চু, কাহার ও নুরুল আমিনকে বাদ দেন আদালত।

২০১৬ সালের ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। ফলে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকেই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২৪ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহন সম্পন্ন করেন আদালত। এতে বর্তমানে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ও সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা, ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নিহতের মা বাবাসহ ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

২৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার রায় প্রদান করেন।

সর্বাধিক পঠিত