প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শব্দ দূষণ রোধে ‘হর্ণ হুদাই বাজায় ভুদাই’ ক্যাম্পেইনের চার বছর

মারুফুল আলম : সচেতনতা তৈরির জন্য ‘হর্ন হুদাই বাজায় ভুদাই’ ক্যাম্পেইন শুরু করেন গ্রাফিক ডিজাইনার মমিনুর রহমান রয়েল। তিনি বলেন, চার বছর ধরে আমি ‘হর্ন হুদাই বাজায় ভুদাই’ ক্যাম্পেইন করে আসছি। ‘ভুদাই’ মানে বোকা। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে যে-ই হর্ণ দেয়, মানুষ তার দিকে তাকায়। মানুষ তাকালে সে হর্ণ বন্ধ করে দেয়। কারণ, কেউ ভুদাই হতে চায় না।

শব্দ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এমন ব্যানার নিয়ে একাই ক্যাম্পেন শুরু করেন রয়েল। শহরটা ক্রমাগত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে অকারনে হর্ণ বাজানোর কারণে। ৬০ ডেসিবল শব্দ সাময়িকভাবে শ্রবণশুক্তি নষ্ট করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মতে, ১০০ ডেসিবলে তা চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, ৭৫-৮০-৮৫ ডেসিবল শব্দ চলছে। যখনই দেখি ৮০’র উপরে তখনই ব্যানারটা খুলে দাঁড়িয়ে যাই। তখন কিছুটা হলেও শব্দ কমে।

রয়েল বলেন, একদিন আমার মেয়েকে অনেক কষ্টে ঘুম পাড়াই। কিছুক্ষণ পরে হর্ণের শব্দে সে ওঠে যায়। অনাকাঙ্খিত একটি শব্দ ওর ভেতরে ভয় সৃষ্টি করেছে। ওই ঘটনার পরে আমি শক্তভাবে এই ক্যাম্পেনে নামলাম।

ইতিমধ্যে রাস্তায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাড়া ফেলেছে এই ক্যাম্পেইন। চালক, পথচারী সবাই খুব সাড়া দেয়। কেউ কেউ এসে ব্যানার ধরে দাঁড়ায়। কেউ বা ছবি তোলে। মমিনুর রহমান বলেন, অফিসের কাজ শেষে আমি ক্যাম্পেইনে রাস্তায় নামি।

তিনি বলেন, এই ক্যাম্পেইন শুরু অবস্থায় আমি একদম একা ছিলাম। বর্তমানে অনেক মানুষ বলা ঠিক হবে না, তবে ৪/৫ জন সবসময়ই পাই। যতক্ষণ এই ব্যানারটা দেখে, ততক্ষণ অকারণ হর্ণ থাকে না। তবে ব্যানার ক্রস করার পরে সে ভুলে যায়। তাই মানুষ যেনো ভুলে না যায়, প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এই ব্যানারটা থাকা উচিত বলে মনে করেন মমিনুর রহমান রয়েল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত